পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় পুলিশ, শান্তি কমিটি ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই তীব্র সংঘর্ষে ২৫ জনের বেশি সন্ত্রাসী, দুই পুলিশ সদস্য এবং দুই বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ২৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) বান্নু জেলার মিরিয়ান তহসিলের বারাকজাই আখুন্দখেল এলাকায় এই ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয় বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে।
জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াসির আফ্রিদি জানান, ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসীর উপস্থিতির গোপন খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় শান্তি কমিটি দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করে। পরে লাক্কি মারওয়াতের শান্তি কমিটিও বান্নু পুলিশকে সহায়তা করতে সেখানে যোগ দেয়। অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও পুলিশ তা সরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসীদের তীব্র গুলিবর্ষণের মধ্যেও তারা নিরাপদে থানায় পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং পরে অতিরিক্ত বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সফল অভিযানে ২৫ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে জমারি নূর ও আবদুল্লাহ নামের দুই শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বারাকজাই এলাকায় এখনও বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী অবস্থান করায় দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবর্ষণ চলছে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই সংঘর্ষে নিহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন ওয়াহিদ খান ও নূরুল্লাহ এবং নিহত দুই বেসামরিক ব্যক্তি হলেন অবসরপ্রাপ্ত এফসি কর্মকর্তা রাইব খান ও নাসির খান। এছাড়া এসএইচও নওরাং আসমতুল্লাহ নিয়াজিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, একই দিনে বান্নু-মিরানশাহ সড়কের মামা শ খেলে গুল জামান মসজিদের কাছে পুঁতে রাখা ১০ কেজি ওজনের একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা নিষ্ক্রিয় করে বড় ধরনের নাশকতার ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে বান্নু পুলিশ। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরকটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়।