শিরোনামঃ
মধ্যবিত্তের যে ১০টি অভ্যাস আর্থিক বিড়ম্বনা ডেকে আনে রথযাত্রায় হিন্দুদের পাশে থাকার নির্দেশ রিজভীর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই সরকারি হিসাবে ৭ লাখ দেখালেও গাছ লাগানো হয়েছে ২ লাখ: প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম বন্যায় ভেসে গেল খামারের ৯০০ সাপ, লোকালয়ে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরান চীন ও রাশিয়ার রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে যে ৪ দল শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করছে সরকার
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

পর্যাপ্ত মজুদের পরও দেশজুড়ে জ্বালানির হাহাকার:

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের মজুদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে বারবার পর্যাপ্ত সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঢাকাসহ সারা দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে বিরাজ করছে তীব্র হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও পাম্পগুলো কেন বন্ধ থাকছে এবং এত তেল আসলে যাচ্ছে কোথায়—তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রায় দেড় মাস ধরে চলা এই জ্বালানিসংকটের কারণে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তেল সংগ্রহের দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

কী বলছে সরকার ও বিপিসি?

জ্বালানি তেলের এই সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ চাহিদার পাশাপাশি জুন মাসের জন্যও পর্যাপ্ত তেলের নিশ্চয়তা রয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, পাম্পগুলোতে মূলত অকটেন নিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড় বেড়েছে এবং চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের হিসাবে তেল সরবরাহ করায় অনেক পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার থেকে অকটেনের সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে বিপিসি। অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি রোধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইতিমধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পাম্প মালিকদের দাবি: ‘মরুভূমিতে এক বালতি পানি’

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মতে, এটি সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ার ফল। অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) সভাপতি নাজমুল হক জানান, ঢাকার বাইরের অনেক পাম্পে মাসে মাত্র ১৫-২০ দিনে একবার তেল দেওয়া হচ্ছে।

আরেক অংশের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দীন পারভেজ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক পাম্প মাসের শুরুতেই তাদের বরাদ্দ শেষ করে ফেলছে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি হয়ে গেছে, যেন মরুভূমিতে এক বালতি পানি ঢালা; দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ।”

দেশজুড়ে জ্বালানিসংকটের খণ্ডচিত্র

সারা দেশে জ্বালানিসংকটের প্রভাব একেক অঞ্চলে একেক রকম। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

একনজরে: সারাদেশে জ্বালানিসংকটের বিভাগীয় চিত্র
বিভাগ/অঞ্চল বর্তমান পরিস্থিতি ও জনভোগান্তির চিত্র
⚓ চট্টগ্রাম মহানগরের প্রায় ৪০% পাম্প বন্ধ। সপ্তাহে মাত্র একদিন তেল মিলছে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
🍵 সিলেট নতুন রেশনিং নীতির কারণে প্রায় ৯০টি ছোট পাম্প বন্ধ। ২ দিনের বেশি তেল মজুদ রাখা যাচ্ছে না।
🥭 রাজশাহী বরাদ্দকৃত তেল একদিনেই শেষ। ফলে একদিন পাম্প খোলা থাকলে পরবর্তী তিনদিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
🚤 বরিশাল অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতার কারণে দ্রুত তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। সপ্তাহের অর্ধেকের বেশি সময় পাম্পে তেল নেই।
🌾 ময়মনসিংহ ৭ দিনের তেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬ ঘণ্টায়। ভোর থেকে পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলের বিশাল লাইন।
🏭 খুলনা চাহিদার তুলনায় ২০% কম সরবরাহ। প্রয়োজন না থাকলেও চালকরা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় ঘাটতি বাড়ছে।
🔥 রংপুর কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি তুঙ্গে। প্রতি লিটার তেল ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আতঙ্কে চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানান, আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় হয়তো সরবরাহ পর্যাপ্ত বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি শুধু সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা, কালোবাজারি, অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার সম্মিলিত ফল বলে মনে করেন। তাঁর মতে, মানুষের আতঙ্ক কমাতে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং তেল বিক্রির সীমার ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও সমন্বয় করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


এ জাতীয় আরো খবর...