শিরোনামঃ
‘বাংলার জয়যাত্রা’ ছাড়িয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইনেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা: উপজেলা চিকিৎসকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের ২ মাসেই সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন: মাহদী আমিন ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু রাজনীতির ‘বসন্তের কোকিল’ বনাম তৃণমূলের দীর্ঘশ্বাস: টিকে থাকবে কে? তেলতেলে বিশ্বনীতি: আবারও কি বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় বাংলাদেশ! এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন স্রেফ গুজব: রুমিন ফারহানা কোচিং বাণিজ্য রোধ ও স্কুল সংস্কারে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দায় পৌঁছাল প্রথম হজ ফ্লাইট
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

দায়িত্ব গ্রহণের ২ মাসেই সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩১ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ৬০টি উল্লেখযোগ্য ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। সরকারের এই ১৮০ দিনের দ্রুতগতির কর্মপরিকল্পনা ও সাফল্যকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ‘অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্ব রাজনীতির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এ বছর বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর স্থান পাওয়াকে তিনি ‘গণতন্ত্র ও জনতার বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন।

মুখপাত্র মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলগুলো সংসদে হট্টগোল ও রাজপথে গুজবের রাজনীতি পরিহার করে সরকারের এসব ইতিবাচক উদ্যোগে গঠনমূলক সহযোগিতা করবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গত দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বাস্তবায়িত ৬০টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। পাঠকের সুবিধার্থে খাতভিত্তিক সেই ৬০টি পদক্ষেপ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

২. কৃষক কার্ড: ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত এই কার্ড প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীদের দেওয়া হয়েছে।

৩. কৃষি ঋণ মওকুফ: প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: বৈশ্বিক সংকট ও তারল্যসংকট থাকা সত্ত্বেও খাদ্যপণ্য আমদানি অব্যাহত রেখে পবিত্র রমজানসহ বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

১০. ধর্মীয় ভাতা: ৪,৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী।

১১. জাকাত আধুনিকায়ন: জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ এবং ঈদে দেশজুড়ে অসহায়দের ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

১৩. হজযাত্রায় স্বস্তি: এ বছরই হজের খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো দেশেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

১৪. শূন্য পদ পূরণ: সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে থাকা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ পূরণে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৫. বন্ধ কারখানা চালু: চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানাগুলো চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৬. ইকোসিস্টেম তৈরি: স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড ও হাই-টেক পার্কে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু হয়েছে।

১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

১৮. কৌশলগত কাঠামো: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা এবং এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ।

১৯. বিনিয়োগ সহজীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

২০. ঈদের আগে বেতন: ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শ্রমিক, মালিক ও সরকারের সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরের আগেই সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

২৪. অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব: উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৫. পে-পাল চালু: বাংলাদেশে পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাস ও বৈদেশিক শ্রমবাজার

১২. প্রবাসী কার্ড: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ।

২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে যৌথ বিবৃতি।

২২. নতুন শ্রমবাজার: ইউরোপের ৭টি দেশের (সার্বিয়া, গ্রিস, রোমানিয়া, পর্তুগাল ইত্যাদি) সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার খুলতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ।

২৩. কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি: দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে দেশজুড়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলাম প্রণয়ন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া

২৬. ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

২৭. ই-হেলথ কার্ড: সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ই-হেলথ কার্ড চালু এবং হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন।

২৮. ভর্তি ফি ও বৃত্তি: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির বদলে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা এবং শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত।

৩০. শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকসহ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত।

৩১. খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্মুক্তকরণ, উপজেলা পর্যায়ে ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।

৩২. নতুন কুঁড়ি ও বইপড়া: ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু, সংসদে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং বইপড়ায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ।

৩৩. বিনামূল্যে সামগ্রী: ২ লাখ শিশুর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলট প্রকল্প শুরু।

৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তি।

৩৫. ক্রীড়া ভাতা: ‘স্পোর্টস কার্ড’-এর মাধ্যমে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান শুরু।

৪৪. হামের টিকা: বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় দেশজুড়ে চালু।

৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: প্রথমবারের মতো এনটিআরসির মাধ্যমে মেধাভিত্তিক প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত।

জ্বালানি, পরিবেশ ও অবকাঠামো

৫. নদী-খাল খনন: সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননকাজ ৫৪টি জেলায় শুরু হয়েছে।

৬. তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ: বৈশ্বিক সংকটেও ভর্তুকি বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক তৎপরতায় জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

৭. সৌরবিদ্যুৎ: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।

৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহে ‘ফুয়েল কার্ড’-এর পাইলটিং প্রজেক্ট চালু।

৩৬. সবুজ কর্মসংস্থান: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে এরই মধ্যে ১.৫ কোটি চারা উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।

৪০. পদ্মা ব্যারেজ: শুষ্ক মৌসুমে পানি নিশ্চিত ও মরুকরণ রোধে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: কমিউনিটি সমন্বয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান।

৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ (সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা) হিসেবে গণ্য করে আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত।

৪৮. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ১১ দফা নির্দেশনা জারি (দিনের আলো ব্যবহার, অর্ধেক এসি/ফ্যান চালানো)।

৫০. ইস্টার্ন রিফাইনারি: সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য) স্থাপনে আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান।

৫৩. থার্ড টার্মিনাল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ।

৫৯. উপকূল সুরক্ষা: নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।

রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধন, সুশাসন ও মানবাধিকার

৪. অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ: সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি; গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি বিল পাসের অপেক্ষায়। জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধন: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাসভবন ‘যমুনা’ ব্যবহার না করে নিজ বাড়িতে থাকছেন এবং নিজ খরচে গাড়ি ও তেল ব্যবহার করছেন।

৩৮. ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত: প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছেন এবং বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করেছেন।

৩৯. ভূমির ডিজিটাল সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইনে ভূমি কর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; শুরু হয়েছে ডিজিটাল সার্ভে এবং চালু হয়েছে ২৪/৭ হটলাইন।

৪১. গাড়ি ও প্লট বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি ও বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্য ব্যবহারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা।

৪৫. চাঁদাবাজি বন্ধ: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ।

৫২. বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: নজিরবিহীন অপপ্রচার সত্ত্বেও সরকার মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

৫৭. সমতাভিত্তিক কূটনীতি: সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানি বণ্টন ও বাণিজ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা হচ্ছে।

৫৮. পাচার হওয়া অর্থ ফেরত: পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও আইনি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।

৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গুম-খুন ও ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া দল হিসেবে বিএনপি মানবাধিকার রক্ষায় যে রেকর্ড তৈরি করেছে, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ

৪৬. পিংক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ।

৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু।

৫৫. ট্রেনে ফ্রি ওয়াই-ফাই: চলন্ত ট্রেনে এবং আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ১০ হাজার ৫৬৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর সিদ্ধান্ত।

আইন সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধন

মাহদী আমিন জানান, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং গুম প্রতিরোধসহ ১৬টি বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে তিনি সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে রাষ্ট্রীয় ভবন ‘যমুনা’ ব্যবহার না করে নিজ বাসভবনে থাকছেন এবং ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করেছেন। পাশাপাশি মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণের সুবিধা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সম্পদ শনাক্তকরণের কাজ জোরদার করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পরিকল্পিত অপপ্রচার সত্ত্বেও সরকার তথ্যভিত্তিক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোকে হট্টগোল পরিহার করে গঠনমূলক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।


এ জাতীয় আরো খবর...