বান্দরবানের লামায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত ছয় রাবার বাগান শ্রমিককে একটি সফল ও রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন অরণ্যে টানা তল্লাশি চালিয়ে এই শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে। উপজেলার টংকাবতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিরডেরা এলাকার একটি রাবার বাগানে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শ্রমিকরা। সে সময় হঠাৎ করেই একদল অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী দুর্বৃত্ত সেখানে হানা দেয়। তারা শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করে এবং চোখ বেঁধে গহীন পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃত এই শ্রমিকরা হলেন—লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আফসার (১৯), মো. আরাফাত (২২), ইসমাইল (২৪), করিম উল্ল্যাহ (২৬), রমিত (২৯) এবং সাকিব (১৮)। পরবর্তীতে এই দুর্বৃত্তরা রাবার বাগানের মালিক ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অপহরণের এই খবর জানাজানি হওয়ার পরপরই বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দ্রুততার সাথে অভিযানে নামে সেনাবাহিনীর একাধিক টহল দল। আইএসপিআর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দিন-রাতব্যাপী দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর নিবিড় অনুসন্ধান ও চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলতে থাকে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর জোরালো উপস্থিতি ও অভিযানের আঁচ পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অপহরণকারীরা। উপায় না দেখে অপহৃত শ্রমিকদের পাহাড়ের মাঝেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ওই সশস্ত্র দল। এরপর শুক্রবার দিনের আলো ফোটার পর সেনাবাহিনীর টহল দল অপহৃত ছয় শ্রমিককে সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় থানা পুলিশকেও পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করেছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের সাহসী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে, মুক্তিপণ ছাড়াই আপনজনদের অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় শ্রমিকদের পরিবারে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। তবে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ এই ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।