শিরোনামঃ
হজ পালনে সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৭৭ হাজার বাংলাদেশি হেঁটে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু: দুই মাসে প্রাণহানি ছুঁল প্রায় ৫০০ রামিসার কবর জিয়ারতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সংসদ সদস্য সুস্থ কোরবানির পশু চেনা এবং মাংস সংরক্ষণের খুঁটিনাটি চিরকূট এবং গুঞ্জন সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, জিম্মি নাটক শেষে ঘাতক আটক চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্মম দায়ের কোপে বাবা খুন, হাত বিচ্ছিন্ন বটবাহিনীর দৌরাত্ম্য: কৃত্রিম জনমতের ফাঁদে দেশ ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী যুবক নিয়ে তোলপাড়
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

বাজেটে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়ের নেতিবাচক প্রভাব ও বিস্তার দীর্ঘদিনের একটি জটিল এবং বহুল আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে জমি, ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক স্পেস—এই জাতীয় স্থাবর সম্পদ কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে কালো টাকায় পরিণত হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকার পরিকল্পনা করছে, আবাসন খাতে সম্পদ কেনাবেচার ক্ষেত্রে যে অর্থ অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা হিসেবে থেকে যায়, তা বৈধ বা সাদা করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এই সুযোগ অতীতের মতো ঢালাও বা শর্তহীন হবে না; এক্ষেত্রে সম্পদ হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই তাদের নিজস্ব আয়কর রিটার্নে সম্পদের সঠিক ও প্রকৃত বাজারমূল্য পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করতে হবে এবং সেই মূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর বা রাজস্ব সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সম্পদ বেচাকেনার যে বিশাল অর্থনৈতিক অংশ অপ্রদর্শিত বা ছায়ায় থেকে যাচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির মূল ধারায় ফিরে আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, তেমনি আবাসন খাতেও একটি স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

কালো টাকা তৈরির নেপথ্য কারণ: মৌজা মূল্য ও বাজারমূল্যের বিস্তর ফারাক

দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে, আবাসন খাত হলো দেশের অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা লুকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় এবং নিরাপদ স্বর্গরাজ্য। এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত দুর্নীতি যতটা না দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোগত ত্রুটি। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো সম্পদের ‘মৌজা মূল্য’ (অর্থাৎ সরকারিভাবে নির্ধারিত সম্পত্তির সর্বনিম্ন মূল্য) এবং ‘প্রকৃত বাজারমূল্য’-এর মধ্যে বিদ্যমান আকাশ-পাতাল তফাত। যেকোনো স্থাবর সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করা হয়, তখন বড় অঙ্কের লেনদেন সম্পূর্ণ নগদে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে সম্পন্ন হয়। এই বিশাল নগদ অর্থ অর্থনীতিতে সরাসরি কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে প্রবেশ করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পুরো ব্যবস্থাটির অসারতা বোঝাতে একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ তুলে ধরেছেন। ধরুন, কোনো এক ব্যক্তি রাজধানীর অত্যন্ত অভিজাত ও ব্যয়বহুল এলাকা গুলশান বা বনানীতে ১০ কোটি টাকা প্রকৃত বাজারমূল্যের একটি ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক জমি বিক্রি করলেন। কিন্তু সরকারি খাতা অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট এলাকার মৌজা মূল্য বা নির্ধারিত দর হয়তো অনেক কম, যার কারণে ওই ১০ কোটি টাকার সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি হলো মাত্র ২ কোটি টাকায়

এর সরাসরি নেতিবাচক ফল হিসেবে বিক্রেতার কাছে কেবল ২ কোটি টাকার বৈধ দলিল বা আয়কর রিটার্নে দেখানোর মতো আইনি প্রমাণপত্র থাকে। চুক্তির বাকি ৮ কোটি টাকা, যা তিনি ক্রেতার কাছ থেকে নগদে গ্রহণ করেছেন, তার কোনো বৈধ উৎস বা আইনি প্রমাণপত্র তার কাছে থাকে না। ফলে ওই বিক্রেতা নিজে থেকে চাইলেও এই বিশাল অঙ্কের অর্থ নিজের আয়কর রিটার্নে বৈধ আয় হিসেবে প্রদর্শন করতে পারেন না।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ও হতাশার বিষয় হলো, এই সম্পদ বিক্রির যে প্রকৃত মূল্য ১০ কোটি টাকা—এ বিষয়ে লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ক্রেতা, বিক্রেতা, মধ্যস্বত্বভোগী, দলিল লেখক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তারা পর্যন্ত সবাই পুরোপুরি অবগত থাকেন। এর পরও রাষ্ট্রকাঠামোর ত্রুটির কারণে একটি সর্বজনবিদিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক মিথ্যার’ ওপর ভিত্তি করে নাগরিকদের আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্য জমা দিতে হয়। ফলস্বরূপ, ওই জমি বিক্রেতার পকেটে যাওয়া বাকি ৮ কোটি টাকা সম্পূর্ণ আইনি বাধ্যবাধকতার অভাবেই অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে চলা রাষ্ট্রের এই ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেমের কারণেই ক্রেতা বা বিক্রেতা কেউই সম্পদের প্রকৃত মূল্য দেখাতে পারছেন না।

আইনি অসংগতি এবং এনবিআরের নতুন পরিকল্পনার শর্তাবলি

বিদ্যমান আয়কর আইন ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থাবর সম্পদ বিক্রির পর প্রাপ্ত মূল্যের ওপর মূলধনি লাভ কর বা নির্ধারিত কর পরিশোধ করার আইনি ও নৈতিক দায়ভার পুরোপুরি বিক্রেতার ওপর বর্তায়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এটি একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্রেতাকেই এই করের যাবতীয় বোঝা বহন করতে হয়। সম্পত্তি কেনার বিশাল খরচের পর এই অতিরিক্ত সরকারি করের হাত থেকে বাঁচতে এবং কর ফাঁকি দিতেই মূলত কেনাবেচার সময় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের যোগসাজশে সম্পদের প্রকৃত মূল্য আড়াল করে দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়কর বিভাগের এক পদস্থ কর্মকর্তা সম্প্রতি সমকালকে জানিয়েছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক মিথ্যার দুষ্ট বৃত্ত থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনার জন্যই আগামী বাজেটে শর্তসাপেক্ষে প্রকৃত মূল্য দেখানোর বিশেষ সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের অধীনে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনকেই বাধ্যবাধকতার সঙ্গে তাদের বার্ষিক রিটার্নে লেনদেনের আসল মূল্য উল্লেখ করতে হবে। শুধু দেশীয় সম্পদই নয়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত সম্পদও দেশে এনে আইনিভাবে বৈধ করার একটি উইন্ডো বা সুযোগ রাখা হতে পারে।

তবে এই সুযোগের আওতায় যারা কালো টাকা সাদা করবেন, তাদের নিয়মিত এবং সৎ করদাতাদের তুলনায় কিছুটা বেশি হারে জরিমানামূলক কর দিতে হবে। পাশাপাশি, কোনো অসাধু করদাতা বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যদি এই সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট বিধানও নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আবাসন খাতের দাবি এবং রিহ্যাবের অবস্থান

প্রতি বছরই জাতীয় বাজেটের আগে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের মূল দাবি থাকে—বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মনে করেন, এই ধরনের সুযোগ আবাসন খাতকে চাঙ্গা করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

তিনি জানান, অনেক সময় প্রবাসীরা দেশে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স বা অর্থ পাঠানোর পর তা আয়কর রিটার্নে முறையாக ঘোষণা দেন না বা দিতে ভুলে যান। ফলে আইনি জটিলতায় ওই বৈধ অর্থ এক পর্যায়ে অঘোষিত বা অপ্রদর্শিত টাকা হিসেবে গণ্য হয়। এই টাকা দিয়ে দেশে ফ্ল্যাট বা জমি কেনার সুযোগ তাদের না দিলে তা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। সম্প্রতি এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আবাসন ব্যবসায়ীরা জোরালো দাবি জানিয়েছেন যেন প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে না পারে। এজন্য তারা আয়কর অধ্যাদেশের বহুল আলোচিত পুরোনো ধারা (১৯ বিবিবিবিবি) পুনর্বহালেরও দাবি তুলেছেন।

কালো টাকা সাদা করার অতীত ইতিহাস ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার রেওয়াজ একেবারেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সরকারের আমলেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার খোঁড়া যুক্তিতে এই অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংরক্ষিত আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করা হয়েছে।

অতীতের পরিসংখ্যানের দিকে নিবিড়ভাবে তাকালে দেখা যায়:

  • ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছর: সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোট ৯ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল।

  • ২০২০-২০২১ অর্থবছর: দেশে কালো টাকা সাদা করার ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি হয় এই অর্থবছরে। ওই এক বছরেই সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাদা করা হয়, যেখানে সরকারের একমাত্র শর্ত ছিল মাত্র ১০% হারে নামমাত্র কর প্রদান।

  • ২০২১-২২ অর্থবছর: মাত্র ৭.৫% কর দিয়ে বিদেশে পাচার হওয়া বা বিদেশে থাকা অঘোষিত অর্থ দেশে আনার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয় এবং সেই বছর এই সুযোগ নিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা সাদা করা হয়।

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছর: একই সাড়ে ৭ শতাংশ কর দিয়ে টাকা বৈধ করার সুযোগ বহাল ছিল।

  • ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ, নগদ টাকা, শেয়ারবাজারসহ যেকোনো অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তবে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ‘বিনা প্রশ্নে’ কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ রাখা হলে সুশীল সমাজ ও শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার। বর্তমানে উচ্চ কর ও জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চালু আছে। বিদ্যমান নিয়মে কেউ যদি এক কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে চান, তবে তাকে সর্বোচ্চ স্লাবের ৩০% কর দিতে হবে এবং এর সঙ্গে আরও ১০% জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে কর ও জরিমানা হিসেবে সরকারকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়, যার পর কেবল বাকি অর্থ বৈধ আয়ের অংশ হিসেবে দেখানো যায়।

বিশ্লেষকদের মত: দুর্নীতিবাজদের ঢালাও সুযোগ নয়, কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

কালো টাকা সাদা করার এই চিরস্থায়ী নৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ গভীর ও বাস্তবমুখী বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, রাষ্ট্র যদি অর্থনীতিকে মূল ধারায় আনার জন্য এই সুযোগ দিতেই চায়, তবে সেটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে দিতে হবে। ঘুষ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অন্যায়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে কোনোভাবেই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি সমাজে দুর্নীতির আইনি বৈধতা দেয় এবং সৎ করদাতাদের চরমভাবে নিরুৎসাহিত করে।

তবে যারা রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের ত্রুটি বা আইন না জানার কারণে রিটার্নে তাদের বৈধ আয়ের অর্থ দেখাতে পারেননি, কেবল তাদেরই এই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, সৎ পথে উপার্জিত কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া অর্থকে নিয়মিত করের চেয়ে কিছুটা বেশি হারে দণ্ডমূলক কর ও জরিমানা দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

ড. মাসরুর রিয়াজ জোর দিয়ে বলেন, আবাসন বা স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কালো টাকা তৈরি স্থায়ীভাবে রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উপায় হলো ‘মৌজা রেট’ বা সরকারি নির্ধারিত মূল্যকে বাস্তব বাজারমূল্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এর জন্য বাজারভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত ফর্মুলা তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। যদি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যে দলিল রেজিস্ট্রি করার আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়, তবে মানুষ বাধ্য হয়েই কালো টাকা তৈরি থেকে বেরিয়ে আসবে। নতুবা সাময়িক সুযোগ দিয়ে এই কালো টাকা তৈরির দুষ্টচক্র কখনোই ভাঙা সম্ভব হবে না।


এ জাতীয় আরো খবর...