সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: ফরেনসিক রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য, আজ চার্জশিট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে যে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাই রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এই ঘটনায় আজ রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে।

ফরেনসিক রিপোর্টের চূড়ান্ত তথ্য

শনিবার (২৩ মে) সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শিশুটির ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শ্বাসরোধ করে হত্যার আগে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ধর্ষক হিসেবে সোহেল রানাকেই শনাক্ত করা হয়েছে।

চার্জশিট ও আইনি পদক্ষেপ

  • চার্জশিট প্রস্তুত: তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার কাজ চলছে। সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রিসহ কারিগরি কাজ শেষ হলেই তা আদালতে পাঠানো হবে। চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হচ্ছে।

  • বিশেষ পিপি নিয়োগ: মামলার বিচারকাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • বিচারকাজ শুরুর সময়: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঈদের পরপরই এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রধান আসামির জবানবন্দি

গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে যে, ঘটনার আগে সে মাদক (ইয়াবা) সেবন করেছিল এবং মাদকাসক্ত অবস্থাতেই রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রেক্ষাপট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুততম সময়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এই নিষ্ঠুর ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


এ জাতীয় আরো খবর...