শিরোনামঃ
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

তিন শর্তে রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা ওই আদেশে বলা হয়, রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃক দাখিলকৃত আপিল ও আপিলের অধিকতর বিবরণীর বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হলো।

শর্তগুলো হলো- হাসপাতাল পরিচালনায় মানতে হবে ১৯৮২ সালের নির্দেশনা, ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা এবং লাইসেন্স এর শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে যেকোন সময় ব্যবস্থা নেবে সরকার।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

পরবর্তিতে ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেদিনই বিকালে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয় নোটিসে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সেসময় বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিসের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।

এরপর ১১ জুন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৮২ সালের অর্ডিন্যান্সের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো।


এ জাতীয় আরো খবর...