শিরোনামঃ
ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত কক্সবাজারে শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যুবক গ্রেফতার মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭ মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার: তথ্য উপদেষ্টা দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই : মির্জা ফখরুল
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ভর্তি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

দেশের উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, যাতায়াত কষ্ট ও অর্থনৈতিক অপচয় লাঘব করতে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত ভর্তি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর কোনো দিন যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বায়ত্তশাসিত ও শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহা কাটাতে প্রয়োজনে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের চিন্তাভাবনাও সরকারের নীতিগত আলোচনায় উঠে এসেছে। মূলত বড় পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে ভর্তি প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করাই এখন শিক্ষা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাথে উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সেখানে জানানো হয়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নীতিগতভাবে নিজস্ব আইনে ও স্বায়ত্তশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও সার্বিক নিয়মকানুনে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকে। শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ কমানোর স্বার্থে যদি বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মত না হয়, তবে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে হলেও এটি কার্যকর করার দিকে এগোবে সরকার। নীতি নির্ধারণী মহলের ধারণা, শীর্ষ ও প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হলে গুচ্ছ ছেড়ে নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও পুনরায় ফিরে আসবে।

বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পরও ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু ও শেষ হতে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লেগে যায়। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অক্টোবর-নভেম্বরে কার্যক্রম শুরু করলেও তা পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সেশনজটে পড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়। এই অচলাবস্থা দূর করতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত ভর্তি শেষ করার উদ্দেশ্যে ইউজিসিকে একটি সার্বজনীন ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সব উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পালন করতে বাধ্য থাকবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যেগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে, সেগুলোতে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় একেক সময় আলাদা পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের জন্য জিএসটি ছাড়াও কৃষি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পৃথক গুচ্ছ পদ্ধতি চালু ছিল। তবে শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর মতো প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত হয়নি। এ ছাড়া বিইউপি, বুটেক্স, মেরিটাইম ও এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছিল।

সাম্প্রতিক শিক্ষাবর্ষগুলোতে সমন্বিত এই ভর্তি কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গুচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে তাদের কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষার্থী পাওয়ার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা নষ্ট হচ্ছিল। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো যতক্ষণ না পর্যন্ত সার্বজনীন গুচ্ছে অংশ নেবে, ততক্ষণ সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রকৃত সুফল ও সফলতা অর্জন সম্ভব নয়।

এই দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষার কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়াতে হয়। কাছাকাছি তারিখে পরীক্ষা থাকায় অনেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান না। পাশাপাশি দূরদূরান্তে যাতায়াত ও অবস্থানজনিত কারণে অভিভাবকদের বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয় হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন মনে করছে যে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একক আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এনে একটি স্বচ্ছ ও সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের এই অবর্ণনীয় সামাজিক ও আর্থিক ভোগান্তি স্থায়ীভাবে নিরসন করা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...