শিরোনামঃ
সরকারের বড় সাফল্য স্বাস্থ্য খাতের ওপর নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার আড়ালে নীরব মেধাপাচার: বিদেশ গিয়ে আর ফেরেন না শিক্ষকরা জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তৃণমূলের আধিপত্য বিস্তারে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে চলেই গেল ছোট্ট তনুশ্রী বেরিয়ে এলো অপ্রতিম হত্যার আসল কারণ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ৪ ও প্রথম স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে ইট’স অ্যান অর্ডার ‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘে সংস্কার ও রোহিঙ্গা সংকট তুলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি উচ্চপর্যায়ের ৩৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। এই প্রতিনিধিদলে সরকারের চারজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই সর্বোচ্চ আসরে বর্তমান সরকারের প্রথম অংশগ্রহণ হিসেবে এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক কার্টেন রেইজার বা প্রাক-সফর সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত রোববার এই সফরের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, চার রাত নিউইয়র্কে অবস্থান শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি একটি বিরল ও ঐতিহাসিক সম্মান বয়ে এনেছে। কারণ, এবারের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে দেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এবারের অধিবেশনে শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বহুল আলোচিত বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম অত্যন্ত কূটনৈতিক ও বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, যখন কোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এ ধরনের বৃহৎ ও বহুপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন, তখন তাদের কর্মসূচির প্রতিটি মুহূর্ত আগে থেকে শতভাগ নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয় না। এই ধরনের সফরের সময়সূচি অত্যন্ত নমনীয় ও পরিবর্তনশীল থাকে। পূর্বনির্ধারিত অনেক কিছুই হয়তো পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে, আবার সম্পূর্ণ নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তও হতে পারে। এটি একটি চলমান ও গতিশীল প্রক্রিয়া, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করতেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল বিতর্কে (জেনারেল ডিবেট) ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া তার এই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপরও জোর দেবেন। দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি যুব সমাজ ও নারীদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সবার অবাধ প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। সর্বোপরি, বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসা দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে তার সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত এক বিশেষ প্রাতরাশ বা ব্রেকফাস্ট আয়োজনে অংশ নেবেন। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়ে বিশ্বনেতাদের কাতারে নিজের উপস্থিতি জানান দেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত এক রাজকীয় নৈশভোজেও তার অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ বুধবার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যতালিকা আরও বৈচিত্র্যময় ও কর্মমুখর থাকবে। এই দিন তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জনহিতৈষী ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এর প্রভাব থেকে একটি ন্যায্য ও টেকসই উত্তরণ (জাস্ট ট্রানজিশন) বিষয়ক জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ওই দিনই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাইড ইভেন্টেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বিশদ আলোচনা হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর, যেদিন তিনি সাধারণ পরিষদে তার মূল ভাষণ দেবেন, সেদিন দিনের বেলায়ও তার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে ভয়াবহ হুমকির মুখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে, তা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মাতৃস্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যা বা মিডওয়াইফারি বিষয়ে বাংলাদেশ, সুইডেন এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন। আর ওই দিন নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদের মূল মঞ্চে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বা সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে মূলত পারস্পরিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পারস্পরিক সমর্থনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একাধিক বৈঠকের কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করবেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে এই বৈঠকগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম তার ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন পুরো বিশ্ব নানা ধরনের যুদ্ধ, চরম মানবিক সংকট, তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এই সফরটি নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের রূপকল্প আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন সংকট, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের মতো অত্যন্ত জটিল বিষয়গুলো এবারের অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময় অত্যন্ত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আসাদ আলম সিয়াম মনে করেন যে, বিশ্বজুড়ে জাতিগুলোর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস দ্রুত পুনরুদ্ধার করা এখন সবচেয়ে জরুরি। সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিবাদগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার বিষয়গুলো এবারের অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আর এই বিশাল বৈশ্বিক কর্মযজ্ঞে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এক শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জোরালো অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: টাইমস অফ বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর...