ছোট্ট তনুশ্রী। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জ্বর আসে তার। প্রথমে একজন চিকিৎসককে দেখানোর পর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চলছিল চিকিৎসা। শারীরিক অবস্থাও ভালো। কিন্তু গত শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রথমে নগরের ওয়্যারলেস এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা আইসিইউ শয্যার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। চারটি হাসপাতালে ঘুরেও মিলল না শয্যা। পরে তাকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কেবল অনুশ্রী নয়, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজন শিশু মারা যায়। এর সঙ্গে আছে এক মাস বয়সি সন্তান রেখে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু, ৩৫ সপ্তাহ বয়সি গর্ভের সন্তান নিয়ে মা-সন্তানের মৃত্যু, বাবা-মার একমাত্র সন্তানের মৃত্যুসহ বিভিন্ন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। বলা যায়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর মৃত্যুতে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। আক্রান্তদের মিলছে না আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা। আইসিইউ-সংকটে চিকিৎসা না পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গত ১৯ দিনে ১২ জনের মৃত্যু হয়। গত শনিবার এক দিনেই আক্রান্ত হন ১১০ জন। দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছেন ৭৫ জন। ডেঙ্গু চট্টগ্রামে ভয়াবহ আগ্রাসী রূপ দেখাচ্ছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদা বেগম (২৯) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর দুই সন্তান। এর মধ্যে প্রথম সন্তানের বয়স সাড়ে চার বছর ও দ্বিতীয় সন্তানের বয়স এক মাস। গত ৫ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তান আদিয়ানের জন্ম। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। এর সংখ্যা বাড়ছে। তবে চিকিৎসাব্যবস্থাও আছে। চমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নারে চিকিৎসা চলছে। তবে আইসিইউ-সংকটের বিষয়টাও আমাদের মনে আছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের গত ১৯ দিনে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ হাজার ৪২৭ জন। চলতি মাসে মোট মারা যান ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ চারজন, মহিলা আটজন ও শিশু পাঁচজন। চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ৭৫ জন।