শিরোনামঃ
অতিরিক্ত বাসভাড়া নিলে জরিমানা, বাতিল হবে রুট পারমিট: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না বিরোধী দলগুলো আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে: রিজভী দূরপাল্লা ও মহানগরে বাসভাড়া বাড়ল নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিমার টাকা হাতাতে নিজেদের বাসেই আগুন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ চক্র চাকরির চূড়া থেকে নামার প্রস্তুতি ফিফা সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

সনদসর্বস্ব শিক্ষার মূল্য: শিক্ষিত তরুণদের ৩৬% বেকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৪ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা একসময় একটি সম্মানজনক ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূঢ় বাস্তবতার গল্প বলছে| দেশের বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণ-তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও তাদের কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের দেখা পাচ্ছেন না| সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের প্রকাশিত এক গভীর ও বিশদ গবেষণাপত্রে দেশের এই উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের এক ভয়াবহ, অন্ধকার ও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে| আইএমএফের ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মাঝে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে| অথচ পরিসংখ্যান বলছে, দেশে সামগ্রিকভাবে তরুণ বেকারত্বের গড় হার মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি| অর্থাৎ, সাধারণ তরুণদের তুলনায় যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাদের বেকারত্বের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি| আইএমএফের ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক স্বনামধন্য সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশের তরুণদের বেকারত্ব পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তারিত ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে| ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পুরো এশিয়া মহাদেশ জুড়েই বর্তমানে তরুণদের কর্মহীনতা একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়ালেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষিত তরুণেরা|
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের এই অভিশাপ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তা এক মারাত্মক ও কাঠামোগত রূপ ধারণ করেছে| আইএমএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের দিক থেকে সবচেয়ে নাজুক ও ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা| দেশটিতে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক| এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারত, যেখানে এই বেকারত্বের হার প্রায় ৪২ শতাংশ| অন্যদিকে, ৩৬ শতাংশ বেকারত্ব নিয়ে বাংলাদেশও খুব একটা স্বস্তিদায়ক বা নিরাপদ অবস্থানে নেই| তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর চিত্র অনেকটাই ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও আশাব্যঞ্জক| দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের একটি কার্যকর সমন্বয় থাকার কারণে সেখানে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম| উদাহরণস্বরূপ, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে তা মাত্র ১৬ শতাংশ| এছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এই বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ, ফিলিপাইনে প্রায় ১২ শতাংশ এবং উন্নত অর্থনীতির দেশ সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার মাত্র ৮ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে| এই পরিসংখ্যানগত বিশাল ব্যবধান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে|
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের এই বিশাল বেকারত্বের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দেশের প্রচলিত তাত্ত্বিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তব চাকরির বাজারের মধ্যকার যোজন যোজন দূরত্ব ও অসামঞ্জস্যকে| প্রতিবছর দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, কিন্তু তাদের সেই অর্জিত ডিগ্রির সঙ্গে মানানসই বা যোগ্যতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পেশাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ দেশে একেবারেই তৈরি হচ্ছে না| দেশের অন্যতম শীর্ষ চাকরির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর এই বিষয়ে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও ভয়ংকর একটি চিত্র তুলে ধরেছেন| তার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে| ২০১০ সালে দেশের মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ছিলেন স্নাতক ডিগ্রিধারী, যা ২০২২ সালে অভাবনীয়ভাবে বেড়ে ৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে| এর সহজ অর্থ হলো, গত এক যুগের ব্যবধানে দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী শ্রমশক্তি প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে| কিন্তু চরম হতাশার বিষয় হলো, যে বিপুল হারে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের সংখ্যা বেড়েছে, সেই একই অনুপাতে দেশে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন, বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি| তার দেওয়া নির্ভুল হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশের শ্রমবাজারে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ নতুন তরুণ-তরুণী কাজের সন্ধানে প্রবেশ করে থাকেন| আর এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখই হলেন স্নাতক ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিত তরুণ, যাদের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ একেবারেই নগণ্য|
উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের এই করুণ ও নির্মম চিত্রের সত্যতা সরাসরি মিলেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপেও| বিবিএসের ওই বিস্তৃত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা হলো ২৬ লাখ ২৪ হাজার| এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুধু ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই হলো ২০ লাখ ৩২ হাজার, যা মোট বেকারের একটি বিশাল অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে| সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই হলেন উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী| মেধা, যোগ্যতা ও প্রবল সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর চাকরি না পেয়ে এই তরুণেরা চরম হতাশা, সামাজিক বঞ্চনা ও মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছেন| একটি সম্মানজনক চাকরি পাওয়ার জন্য তাদের এই অপেক্ষার সময়কালও অত্যন্ত দীর্ঘ ও উদ্বেগজনক| পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চশিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ১৭ শতাংশেরও বেশি তরুণ তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করার পর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন| এছাড়া ১৫ শতাংশেরও বেশি উচ্চশিক্ষিত তরুণ অন্তত এক থেকে দুই বছর ধরে হন্যে হয়ে একটি মানসম্মত চাকরি খুঁজছেন| অর্থাৎ, সহজ কথায় বলতে গেলে, দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বিশাল ও সম্ভাবনাময় অংশ তাদের জীবনের মহামূল্যবান সময়গুলোর এক বছরেরও বেশি সময় কোনো ধরনের উৎপাদনশীল কাজ ছাড়া সম্পূর্ণ কর্মহীন অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের চরম অপচয়|
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বর্তমান এই সংকটজনক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ‘গ্র্যাজুয়েট গ্লাট’ বা অতিরিক্ত স্নাতক তৈরির মারাত্মক সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে| এর মূল অর্থ হলো, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর যে হারে এবং যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সাধারণ বা তাত্ত্বিক ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন, দেশের অর্থনীতিতে ঠিক সেই পরিমাণ ডিগ্রিনির্ভর বা বিশেষায়িত পেশাগত চাকরির সুযোগ আদৌ নেই| সনাতনী এই কাঠামোগত সংকটের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে নতুন ও ভয়াবহ এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)| আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে কর্মীদের নিজস্ব দক্ষতা বাড়ানোর আগেই যদি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত এই প্রযুক্তি গ্রহণ করে ফেলে, তবে তা তরুণদের শ্রমবাজারের ওপর এক অকল্পনীয় ও ধ্বংসাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে| বিশেষ করে জুনিয়র প্রকৌশলী, এনিমেটর, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মীর মতো প্রবেশ পর্যায়ের (এন্ট্রি-লেভেল) কারিগরি পদগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে| এর ফলে সদ্য পাস করা তরুণদের জন্য কর্মজগতে প্রবেশের প্রথম দরজাটিই চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক বিশাল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে| আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এই বিষয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্তমানে উচ্চশিক্ষিত তরুণ কর্মীরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ন্যূনতম মানসম্মত চাকরি খুঁজে পেতেই রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন|
ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের পূর্বাভাস দিয়ে আইএমএফের ওই প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে| এত বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা বাংলাদেশসহ এশিয়ার সব উন্নয়নশীল দেশের জন্যই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে যাচ্ছে| অবিলম্বে যদি প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া না হয়, তবে এই উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার অচিরেই দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝায় পরিণত হবে| নীতিনির্ধারকদের এখনই অনুধাবন করতে হবে যে, শুধু গতানুগতিক সনদ বিতরণের মাধ্যমে একটি বিশাল বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়, বরং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাটাই এখন ভবিষ্যতের টিকে থাকার একমাত্র উপায়|
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...