শিরোনামঃ
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

পরিবহনের ভাড়া বাড়ায় ডিম মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরিবহন খাতে ভাড়াবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে| বিশেষ করে কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও ডিমের দাম হঠাৎ করেই নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে| বাজারের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা| একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায় দৈনন্দিন সংসারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা| অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার বা আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে| আর পরিবহন খাতের এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝাই শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়ে এসে পড়ছে|
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী কাঁচাবাজার এবং জোয়ারসাহারা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র লক্ষ করা যায়| বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে| সবজির পাশাপাশি আমিষের প্রধান উৎস মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা| সাধারণ মানুষের প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস ফার্মের মুরগির ডিমের দামও গত দুই দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে| বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়|
সবজির বাজার ঘুরে ক্রেতাদের চরম হতাশা ও ক্ষোভের চিত্র দেখা যায়| বাজারে বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| এছাড়া কাঁকরোল ৮০ টাকা, জাতভেদে বেগুন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে| সালাদের আইটেম টমেটোর কেজি ঠেকেছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় এবং শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়| অন্যান্য সবজির মধ্যে ধুন্দল ও চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুমুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে| কাঁচা মরিচের ঝাঁজ যেন আরও বেড়েছে, কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়| পিস হিসেবে বিক্রি হওয়া চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লম্বা লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে| রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. কিরণ ভাড়াবৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে জানান যে, পণ্য আনার জন্য আগের চেয়ে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা দামের ওপর গিয়ে পড়ছে|
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর নেই| জোয়ারসাহারা বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মাছ পরিবহনে গাড়ির ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আড়তেও মাছের দাম বাড়তি| এর ফলে খুচরা বাজারে সব মিলিয়ে মাছের দাম কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে| বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই কেজি ওজনের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| বড় রুই ৪৫০ টাকা, মাঝারি কাতল ৪০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে| মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে থাকা তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে| বড় তেলাপিয়া ২৮০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২৪০ টাকা এবং পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে| এছাড়া চাষের চিংড়ি আকারভেদে ৭০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে|
মুরগির বাজারে এখনো বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না এলেও বিক্রেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে পরিবহন ব্যয় আরও বাড়লে মুরগির দামও যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে| বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে| তবে স্বস্তির বিষয় হলো—চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর মতো কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের দাম গতকাল পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত ছিল| বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকায়, আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, আমদানি করা রসুন ১৬০ টাকায় এবং দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে|
বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন| ভাড়াবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই প্রবণতা রুখতে সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকি আরও জোরদার করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা|
তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...