রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের অন্যতম হলো বিচার বিভাগ, যার সর্বোচ্চ স্তরে আসীন রয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট| বিচারপ্রার্থী লাখো মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এই বিচার বিভাগের কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো একটি বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার এক অদ্ভুত ঘূর্ণিপাকে আটকে আছে| সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করার কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে দেওয়া হয়নি| ফলে সরকারের সদিচ্ছা এবং নীতিগত সম্মতি থাকার পরও বিচার বিভাগের আধুনিকায়নের চাকা এক ইঞ্চিও সামনে এগোতে পারছে না| এই অচলাবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচের ক্ষমতা সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল| প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে| কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর গত ১৭ আগস্ট প্রেরিত ওই চিঠির পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির কোনো সন্তোষজনক সুরাহা বা সমাধান হয়নি|
দেশের বিচারব্যবস্থার বর্তমান চালচিত্র এবং অধস্তন আদালতগুলোর বাস্তব অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা এবং তা আটকে থাকার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়| আদালত সূত্র ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সারা দেশের অধস্তন আদালতগুলোর অনেক অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও শোচনীয় অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে| বছরের পর বছর ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু ভবন এখন আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে| এমন অনেক আদালত ভবন রয়েছে, যেগুলোর ছাদ বা দেয়াল যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা করতে হচ্ছে| সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে পর্যাপ্ত ভবনের অভাবে মামলার অত্যন্ত সংবেদনশীল আলামত এবং গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে| আধুনিক আর্কাইভিং ব্যবস্থার অভাবে অনেক পুরনো নথিপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে| এর পাশাপাশি বিচারকদের জন্য এজলাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে| পর্যাপ্ত এজলাস না থাকায় বাধ্য হয়ে একাধিক বিচারককে পালা করে একই এজলাস ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে| এই ভাগাভাগির কারণে বিচারকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিচারপ্রার্থীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে| তা ছাড়া বর্তমান আধুনিক যুগে এসেও সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের অধস্তন আদালতগুলোর তথ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো মোটেও যুগোপযোগী নয়| ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট বা ই-জুডিশিয়ারি ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো প্রয়োজন, তা এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি| অথচ প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়গুলোতে সুপ্রিম কোর্টের কোনো নিজস্ব প্রতিনিধি না থাকায়, এমন একটি ক্রান্তিকালে ১০০ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ পেয়েও তা দিয়ে কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না|
বিচার বিভাগের এই সার্বিক স্থবিরতা ও অবকাঠামোগত দৈন্যদশা দূর করার মহৎ উদ্দেশ্যেই সরকার এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল| এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়| অর্থ বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে জিওবি বাবদ সংরক্ষিত একটি বড় বরাদ্দ থেকে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব উন্নয়ন বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে অর্থ বিভাগের নীতিগত সম্মতি নির্দেশক্রমে জানানো হলো| নিঃসন্দেহে এটি বিচার বিভাগের জন্য একটি যুগান্তকারী খবর ছিল| কিন্তু এই আনন্দের খবরের সঙ্গেই এমন একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে থমকে দিয়েছে| চিঠিতে শর্ত হিসেবে বলা হয় যে, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা-২০২২ এবং সরকারের বিদ্যমান যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে| মূলত এই একটিমাত্র শর্তের বেড়াজালেই আটকে গেছে সুপ্রিম কোর্টের ১০০ কোটি টাকা খরচের যাবতীয় স্বপ্ন ও পরিকল্পনা|
পরিকল্পনা বিভাগের যে নির্দেশিকা বা পরিপত্রের কথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা আইনি বৈষম্যই বর্তমান এই অচলাবস্থার মূল কারণ| ২০২২ সালে পরিকল্পনা বিভাগ কর্তৃক সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে জারি করা ওই পরিপত্রে রাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে| পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায় গৃহীত বা বাস্তবায়নাধীন যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যথাক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পিএসসির চেয়ারম্যান এবং দুদকের চেয়ারম্যান নিজ নিজ ডিপিইসি বা ডিএসপিইসির সুপারিশক্রমে অনুরূপ প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন করতে পারবেন| কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে এই পরিপত্রে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বিচার বিভাগের প্রধান অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি| প্রধান বিচারপতিকে এড়িয়ে গিয়ে সংসদ সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনকে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার এই বিষয়টি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আইন অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে|
শুধু প্রধান বিচারপতিকে ক্ষমতা দেওয়া থেকেই বঞ্চিত করা হয়নি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের জন্য যে জটিল সব কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার কোনোটিতেই সুপ্রিম কোর্টের কোনো অস্তিত্ব রাখা হয়নি| ২০২২ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে তার চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা সরাসরি পরিকল্পনামন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে| আর প্রকল্পের ব্যয় যদি ৫০ কোটি টাকার বেশি হয়, তবে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় পাঠাতে হবে| এই প্রকল্পগুলো একনেক বা মন্ত্রীর কাছে যাওয়ার আগে বেশ কয়েকটি ধাপে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়| যেমন, প্রকল্প যাচাই কমিটিতে সাতজন সদস্য থাকেন, যার প্রধান হন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব| প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে ১৪ জন সদস্য থাকেন, যার নেতৃত্বে থাকেন পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন সদস্য| একইভাবে বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি, বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি এবং প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটিতে ১৩ থেকে ১৫ জন করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকেন, যার নেতৃত্বে থাকেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা| কিন্তু এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির কোথাও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি| এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের কোনো কর্মকর্তা প্রকল্প অনুমোদনের কোনো কমিটিতে থাকতে পারছেন না বা নিজেদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না|
এই অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন| এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমের কাছে তাঁর স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেছেন| তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি হলেন রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের একটির অবিসংবাদিত প্রধান| প্রধান বিচারপতির অবশ্যই নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা থাকা উচিত, তা না হলে বিচার বিভাগের নিজস্ব উন্নয়ন ব্যাহত হবে| প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিপত্রে যদি কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত নিরসনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন| অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য ও সিনিয়র আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন পুরো বিষয়টিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন| তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের না থাকাটা বিখ্যাত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের সম্পূর্ণ পরিপন্থী| প্রধান বিচারপতি যেহেতু বিচার বিভাগের প্রধান, তাই এই অঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সীমাহীন আর্থিক ক্ষমতা থাকা উচিত, যাতে তিনি দেশের যেকোনো আদালতের প্রয়োজন অনুপাতে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন| তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যাতে নিজেই বিধি তৈরি করে এই বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে পারে, তার আইনি পথ দ্রুত উন্মুক্ত করা উচিত|
সুপ্রিম কোর্টের চিঠির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আখতার পরিস্থিতি সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন| তিনি জানান যে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পাঠানো চিঠিটি তারা ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছেন| তিনি স্বীকার করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নাম এই পরিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করাটা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং তারাও সেটি চান| এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টে পৃথক কোনো সচিবালয় না থাকায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে তারা চাইলেও কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করতে পারছে না| এই অচলাবস্থা ভাঙার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে| আইন মন্ত্রণালয় যদি এই বিষয়ে ইতিবাচক মতামত প্রদান করে, তবে অবিলম্বে পরিপত্রটি সংশোধন করে প্রধান বিচারপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হবে| আর যদি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি দ্রুত সম্পন্ন না হয়, তবে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের সভায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন| সব মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই জটিল সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান হবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন| তবে যত দিন না এই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ ঘটছে এবং পরিপত্র সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্টকে স্বাধীনভাবে অর্থ খরচের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত এই ১০০ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ বিচার বিভাগের কোনো কাজেই আসছে না, আর অধস্তন আদালতগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থারও কোনো অবসান ঘটছে না|