নীল জলরাশির বিশাল বঙ্গোপসাগরের ঠিক কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে| দূর থেকে তাকালেই মনে হবে সমুদ্রের তীরে যেন এক বিশাল আকৃতির ঝিনুক সযত্নে রাখা আছে| আর সেই ঝিনুকের ছাদটি তৈরি করা হয়েছে অবিকল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের আদলে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মুহূর্তেই মুগ্ধ করতে বাধ্য| এটি মূলত কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল, যা এখন যাত্রী ব্যবস্থাপনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে| আগামী সপ্তাহ থেকেই এই নতুন টার্মিনাল দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে| তবে সবচেয়ে বড় চমকটি অপেক্ষা করছে আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের জন্য, যখন কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হবে| বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে|
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এবার আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুপরিকল্পিত ও নিশ্ছিদ্র প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে| এর আগে গত ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিএ-১ শাখা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও, কারিগরি ও অবকাঠামোগত কিছু কারণে ২৩ অক্টোবর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল| তবে এবার আর কোনো সংশয় নেই| গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেবিচক চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকীসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন টার্মিনাল এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন| পরিদর্শনের পর তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামোগত কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে| অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোও তাদের যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে সরিয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে| শুরুতে উড়োজাহাজ থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত সম্মানিত যাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য পরিবেশবান্ধব গলফ কার্ট ব্যবহার করার আকর্ষণীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে|
পুরোনো টার্মিনালের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল, যা দেশের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করছিল| বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বা এটিএম সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন যে, পুরোনো টার্মিনালের এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিরসন করতেই আগামী সপ্তাহে নতুন টার্মিনালটি চালু করা হচ্ছে| প্রাথমিক ধাপে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রী ব্যবস্থাপনা সেখানে শুরু করা হবে| এরপর এই কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে অক্টোবরের শেষ দিকে বহুল কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করা হবে| আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে| তারা নিজেদের প্রস্তুতির কথা বেবিচককে জানালেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ওঠানামা করে, নতুন টার্মিনাল চালু হলে এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে|
কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পরিচিতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে এর ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অখণ্ড সমুদ্রসৈকত, যা বিশ্বের দীর্ঘতম হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত| কিন্তু এত বড় প্রাকৃতিক বিস্ময় থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বরাবরই বেশ হতাশাজনক| পুরোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বড় আকৃতির কোনো আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সেখানে সরাসরি অবতরণ করতে পারত না| ফলে বিদেশি পর্যটকদের প্রথমে ঢাকায় অবতরণ করে এরপর সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বা সড়কপথে কক্সবাজার যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর| এই নেতিবাচক পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে ২০১২ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়| আগের সরকারের সময়ে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল| জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে স্থলভাগে রানওয়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব না হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত এক সাহসী প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে রানওয়ে সম্প্রসারিত হয় সরাসরি সমুদ্রের বুকের ওপর দিয়ে|
২০২১ সালে শুরু হওয়া এই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির পরতে পরতে ছিল এক একটি অভাবনীয় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ| সমুদ্রের দিকে রানওয়ে বাড়ানোর এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১০৫ একর জমি নতুন করে উন্নয়ন করা হয়েছে| উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের সরাসরি আঘাত থেকে এই মহামূল্যবান রানওয়েকে রক্ষা করতে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল সি-ডিফেন্স বা সমুদ্র-প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে| এই শক্তিশালী বাঁধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩০০ কেজি ওজনের বড় বড় পাথর এবং চার টন ওজনের অতিকায় সিসি ব্লক| আশ্চর্যের বিষয় হলো, সমুদ্রের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় এসব কংক্রিটের ব্লক তৈরি করেই এই অভেদ্য বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে| আগামী ১০০ বছরে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ঠিক কতটা বাড়তে পারে, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করে নেদারল্যান্ডসের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছিল| সেই বৈজ্ঞানিক হিসাবের চেয়েও বেশি উচ্চতায় এই সি-ডিফেন্স তৈরি করা হয়েছে, যাতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে রানওয়েটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে| স্থানীয়ভাবে তৈরি উন্নত মানের ব্লকের পাশাপাশি এই প্রকল্পের জন্য সুদূর মালয়েশিয়া থেকে বিশেষ পাথরও আমদানি করে আনা হয়েছে|
রানওয়ে সম্প্রসারণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলাকালীন সময়ে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তীব্র ডলার সংকট এবং সমুদ্রের বৈরী আচরণের মতো অসংখ্য বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের| সমুদ্রতলের নরম মাটি ও কাদা অপসারণ করতে ব্যবহার করা হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিশেষায়িত সাবমেরিন ড্রেজার| কক্সবাজার বিমানবন্দরের পুরোনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৬ হাজার ফুট, যা পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে মোট ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা হয়েছে| রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের পর সমুদ্রের গভীরে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এলাকাজুড়ে স্তরে স্তরে পাথর বসিয়ে একটি সুদৃঢ় সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছে| এর ফলে এখন থেকে রাতেও নিরাপদে উড়োজাহাজ ওঠানামার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে| সমুদ্রের ওপর প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ লাইট অত্যন্ত সফলভাবে বসানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে ক্যাট-২ এজিএল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একেবারেই প্রথম| রানওয়ের শেষ প্রান্তে এই অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনের জন্য বিশেষ সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে| এসব উজ্জ্বল আলো রাতের অন্ধকারে উড়োজাহাজকে রানওয়ে ব্যবহারে সঠিক পথ দেখাবে| এই রানওয়ে দিয়ে উড়োজাহাজ ওঠানামার সময় যাত্রীরা জানলা দিয়ে দুই পাশেই দেখতে পাবেন বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি, যা এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্ম দেবে|
নতুন এই আন্তর্জাতিক টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার, যার অনুমোদিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা| বিশ্বমানের এই টার্মিনালের আন্তর্জাতিক বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে অনায়াসে ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন| যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এখানে সংযোজন করা হয়েছে ডিউটি ফ্রি শপ, আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, স্বয়ংক্রিয় কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন কাউন্টার, বহির্গমন ও আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং সুবিশাল আগমন লাউঞ্জ| আন্তর্জাতিক বহির্গমন প্রক্রিয়ার জন্য চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি আধুনিক ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে| আন্তর্জাতিক যাত্রীদের লাগেজের জন্য রয়েছে দুটি প্রশস্ত বেল্ট| পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার জন্য অত্যাধুনিক পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, ডিজিটাল সাইনেজ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভারী হ্যান্ডব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে| এই বিশাল ও নতুন অবকাঠামোর ফলে বিমানবন্দরটির বছরে যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আগের প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে একলাফে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে|
টার্মিনাল ও রানওয়ের পাশাপাশি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জন্য ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের এক বিশাল অ্যাপ্রন বা পার্কিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে| সেখানে একই সঙ্গে দুটি বড় আকারের ওয়াইডবডি এবং তিনটি ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজ অনায়াসে পার্ক করে রাখা যাবে| উড়োজাহাজের মসৃণ চলাচলের জন্য দুটি নতুন ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করে ইতিমধ্যে তা চালু করা হয়েছে| এছাড়া বিমানবন্দরে আগত দর্শনার্থী ও যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৩৫টি ভিআইপি এবং ৯০টি সাধারণ গাড়ির সুবিশাল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে| তৈরি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ সুপ্রশস্ত সড়কসহ অন্যান্য সমস্ত সহায়ক লজিস্টিক অবকাঠামো| আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল মান যাচাই শেষে বিমানবন্দরটি ইতিমধ্যে স্বনামধন্য আইকাও সনদও অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে অর্জন করেছে| সম্প্রসারিত এই রানওয়েটি এখন পূর্ণ বোঝাই অবস্থায় বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো সুবিশাল ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য শতভাগ উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে|
টার্মিনালের যাত্রী ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যাধুনিক হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা হবে| এর আওতায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন উভয় কার্যক্রমই নতুন টার্মিনালে সম্পন্ন হবে| অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন হবে পুরোনো টার্মিনালের মাধ্যমে| তবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন করার সুযোগ পাবেন এবং পরে পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে উড়োজাহাজে উঠবেন| বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওসার মাহমুদ উভয়েই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিশ্বের নামিদামি বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো খুব শিগগিরই কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে| রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের এই বিশাল যজ্ঞে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যার চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা| চীনের যৌথ প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে| সরকারের সুদূরপ্রসারী এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক আকাশ-যোগাযোগ চালু হলে অচিরেই দেশে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে এবং হোটেল, রিসোর্টসহ সমগ্র পর্যটনভিত্তিক ব্যবসায় বিশাল বিনিয়োগের এক অভাবনীয় স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত হবে|