শিরোনামঃ
বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু: ডব্লিউএইচও কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশকে থামাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র ইলন মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে যে বার্তা দিলেন জিলিস কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না: প্রতিমন্ত্রী টুকু আখতারুজ্জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে: গোলাম পরওয়ার মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা, দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের জবাব চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১২২ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬০৮ গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

দুই দশকের পুরোনো তথ্যে চলছে জিডিপি গণনা: পরিসংখ্যানের বিভ্রমে আড়াল হচ্ছে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩ বার
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

যেকোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, সার্বিক স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র পরিমাপ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড হলো মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি। একটি দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রার মানে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং উৎপাদনশীল খাতগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা জিডিপির এই সামষ্টিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমেই পুরো বিশ্বের কাছে প্রতিফলিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই জিডিপি গণনার পদ্ধতি এবং এর পেছনের পরিসংখ্যানগত ভিত্তি নিয়ে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মনে এক গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এই সর্বব্যাপী উদ্বেগের মূল কারণ হলো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস তাদের জাতীয় আয়ের হিসাব নিরূপণ করার ক্ষেত্রে এখনো এমন সব সেকেলে ও মান্ধাতার আমলের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে, যার কোনো কোনোটির বয়স ইতিমধ্যে দুই দশক বা বিশ বছর পার হয়ে গেছে। যুগের পর যুগ ধরে অপরিবর্তিত থাকা পুরোনো ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমানের আধুনিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির আকার পরিমাপ করার এই পদ্ধতি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থাকে পুরোপুরি আড়াল করে ফেলছে। এর ফলে সরকারিভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে চমকপ্রদ ও ইতিবাচক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্নের জন্ম হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব অর্থনীতি একের পর এক ভয়াবহ সংকট ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর ভয়াল থাবা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিপর্যয়, দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত জুলাই মাসের ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার মতো ঘটনাগুলো অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই বড় বড় সংকটগুলোর কারণে স্বাভাবিকভাবেই ২০১৯ অর্থবছর, অর্থাৎ কোভিডের আগের সর্বশেষ স্বাভাবিক অর্থবছরের পর থেকে দেশের কৃষি, মৎস্য সম্পদ আহরণ, বৃহৎ শিল্প খাত এবং নির্মাণ খাতের মতো দৃশ্যমান ও বাস্তব খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়কর ও পরিসংখ্যানগত এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায় নির্দিষ্ট কিছু সেবা খাতের ক্ষেত্রে। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেসব খাত পুরোনো জরিপ বা তথ্যের ওপর নির্ভর করে হিসাব করা হয়, সেগুলো এই ভয়াবহ বৈশ্বিক ও দেশীয় সংকটগুলোর মধ্যেও কোনো এক জাদুকরী উপায়ে ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এই খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আবাসন ও খাদ্যসেবা, পেশাদার, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কার্যক্রম, শিল্পকলা, বিনোদন ও চিত্তবিনোদন এবং অন্যান্য কিছু আনুষঙ্গিক সেবা খাত। কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের কোনো যৌক্তিক মিল খুঁজে পাওয়া যায় না, কারণ পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা তাত্ত্বিক মডেলে নতুন করে ঘটা কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের নেতিবাচক প্রভাব প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগই থাকে না।

জিডিপি গণনায় বিবিএস কতটা সেকেলে তথ্যের ওপর নির্ভরশীল, তার সবচেয়ে বড় ও জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয়া যায় ২০২৬ অর্থবছরের পেশাদার, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কার্যক্রম খাতের প্রাক্কলিত হিসাবের দিকে সতর্ক দৃষ্টি দিলে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, ২০২৬ সালের একটি খাতের আর্থিক উৎপাদনের পরিমাণ হিসাব করার জন্য বিবিএস নির্দ্বিধায় ব্যবহার করেছে ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য। গত বিশ বছরে দেশে ও বিদেশে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও পেশাদার সেবার পরিধি আমূল বদলে গেলেও বিবিএসের খাতায় তা যেন সেই দুই দশক আগের জগতেই থমকে আছে। এই পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ অর্থবছরে এই খাতটির মোট আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৪ কোটি টাকা, যা ওই বছরের প্রাক্কলিত জিডিপির শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট খাতটিতে প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ, যেখানে দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের চেয়েও ১ দশমিক ৭৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এমন একটি খাত, যার হিসাব করা হয়েছে দুই দশকের পুরোনো ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর ভর করে। একইভাবে, আবাসন ও খাদ্যসেবা কার্যক্রমের আকার ৭৮ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে ২০০৯-১০ সালের হোটেল ও রেস্তোরাঁ জরিপ এবং ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারির ওপর ভিত্তি করে। শিল্পকলা, বিনোদন ও চিত্তবিনোদন খাতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১০ সালের একটি নামমাত্র পরীক্ষামূলক বা পাইলট জরিপ এবং ২০১৩ সালের শুমারির তথ্য। অথচ এই পুরোনো তথ্যের খাতটিতেই উল্লিখিত খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে।

বিবিএসের প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস স্ট্যাটিস্টিকস: প্রোভিশনাল এস্টিমেটস অব জিডিপি, ২০২৫-২৬ অ্যান্ড ফাইনাল এস্টিমেটস অব জিডিপি, ২০২৪-২৫’ শীর্ষক বিশদ প্রতিবেদনটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলে অর্থনীতির এই কাঠামোগত দুর্বলতার আরও ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের জিডিপির অন্তত ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এমন সব খাতের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলো আংশিক বা পুরোপুরিভাবে ২০০১-০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত পুরোনো ডেটার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। চলতি মূল্যে দেশের মোট জিডিপির আকার যেখানে ৬১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে শুধুমাত্র এই সেকেলে তথ্যের ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোর মোট আর্থিক মূল্যই চার লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই চারটি প্রধান সেবা খাতে ২০২৬ অর্থবছরে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৩০ থেকে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ পর্যন্ত, যা দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে ১ দশমিক ১৬ থেকে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বেশি। বিবিএস কর্তৃপক্ষও তাদের এই পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে যে, প্রতি বছর সরাসরি ও হালনাগাদ তথ্য যখন সহজলভ্য থাকে না, তখন জাতীয় আয়ের হিসাব নিরূপণের ক্ষেত্রে তারা এক্সট্রাপোলেশন বা বহির্পাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে প্রকৃত মাঠপর্যায়ের জরিপ ছাড়াই এক্সট্রাপোলেশন পদ্ধতির এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জিডিপির মূল কাঠামোতেই বিশাল এক ফাঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিসংখ্যানের এই বিপজ্জনক বিভ্রম নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বারবার তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পুরোনো তথ্য প্রয়োগ করার এই রীতি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক। এর ফলে আধুনিক অর্থনীতিতে ব্যবসার সংখ্যা, তাদের মূলধনের আকার, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা এবং পরিচালনার ধরনে যে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, তা জিডিপির হিসাবে কোনোভাবেই ধরা পড়ে না। দীর্ঘসময় ধরে সেকেলে তথ্য এবং ডামি ভেরিয়েবল বা কল্পিত চলকের ওপর নির্ভর করার কারণে সরকারি তথ্যের ওপর সাধারণ মানুষ, দেশীয় বিনিয়োগকারী এবং বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের পরিসংখ্যানের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখার জন্য অধ্যাপক এ কে এনামুল হক এবং অধ্যাপক অতনু রাব্বানী ‘এক্সামিনিং ইনকনসিস্টেন্সিস ইন বাংলাদেশস ন্যাশনাল ইনকাম স্ট্যাটিস্টিকস’ শীর্ষক একটি ডায়াগনস্টিক বা বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তাদের এই গবেষণায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যে, কীভাবে রিপোর্টিংয়ের ত্রুটি বা পক্ষপাতদুষ্ট উৎসের তথ্য জিডিপির প্রাক্কলনে প্রবেশ করে এবং তা ভাইরাসের মতো অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতিবেদনে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যে, ২০১১ থেকে ২০১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জিডিপির গড় প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা ২০১৫ থেকে ২০১৯ অর্থবছরের মধ্যে এক লাফে বেড়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে উন্নীত হয়। এই ত্বরান্বিত প্রবৃদ্ধির পেছনে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের অবদান দেখানো হয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ, অথচ ওই সময়ে জিডিপিতে এই খাতের মোট অবদান ২০ শতাংশেরও নিচে ছিল। এই ধরনের অবাস্তব পরিসংখ্যানগত অসামঞ্জস্যতা জিডিপির হিসাবের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

অর্থনীতির এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য ড. ফাহমিদা খাতুন কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী সুপারিশ প্রদান করেছেন। তিনি প্রাক্কলিত জিডিপির পরিসংখ্যানে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাতভিত্তিক হালনাগাদ জরিপ পরিচালনা করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে এক্সট্রাপোলেশন বা বহির্পাতন পদ্ধতিকে আরও বেশি স্বচ্ছ করা এবং তথ্যের মার্জিন অব এরর বা ভুলের মাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল অবশেষে এই পদ্ধতিগত ত্রুটির ভয়াবহতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এসআইডি) সচিব মো. ফিরোজ সরকার অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সেকেলে বা পুরোনো বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রাক্কলন দেশের অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতাকে, বিশেষ করে এর বিশাল আকার এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কাঠামোকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে, সরকার ইতিমধ্যেই এই বিশাল সমস্যাটি চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং জিডিপি প্রাক্কলনের জন্য ব্যবহৃত ভিত্তি বছর বা বেস ইয়ার হালনাগাদ করার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিবিএস ইতিমধ্যে ভিত্তি বছর পরিবর্তনের এই জটিল প্রক্রিয়াটি শুরু করেছে এবং অতীতে প্রাক্কলিত জিডিপির তথ্যের ওপর একটি ফরেনসিক অডিট বা ফরেনসিক নিরীক্ষা পরিচালনারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি, দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তির কল্যাণে যে নতুন ও উদীয়মান খাতগুলোর সৃষ্টি হয়েছে এবং যেগুলো বর্তমানে জিডিপির গণনার বাইরে রয়ে গেছে, সেগুলোকে জাতীয় আয়ের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিবিএস একযোগে বেশ কয়েকটি গভীর গবেষণা ও বিস্তৃত জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একটি আধুনিক, ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ ও তথ্যনির্ভর পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল দেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও সঠিক নীতি প্রণয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: নিউ এইজে


এ জাতীয় আরো খবর...