পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শুরু হয়েছে জুমের ধান কাটার উৎসব। কাঁধে থুরুং নিয়ে দল বেঁধে জুম থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে জুমিয়ারা। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবছর ফলনও হয়েছে ভালো। বান্দরবানের সবুজ পাহাড় ছেয়ে গেছে সোনালী রঙে। চারিদিকে এখন পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধ। কাঁধে থুরুং নিয়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলায় ব্যস্ত জুমিয়ারা।
বান্দরবান জেলার রুমা থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদমসহ সকল উপজেলার একই চিত্র। পাড়ায় পাড়ায় চলছে জুমের ধান কাটার উৎসব। জেলায় উফশি, বিন্নি, গেলং, কানভুইসহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করে স্থানীয় জুমিয়ারা। প্রতিবছর এপ্রিল-মে মাসে জমি প্রস্তুত করে ধানের বীজ বপন করা হয় আর ৪ মাস পরিচর্যার পর সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয় ধান কাটার উৎসব।
দুর্গম পাহাড়ের জুমিয়া পরিবারগুলো তাদের উৎপাদিত ধান থেকেই সারা বছরের চাল সংগ্রহ করে রাখে। তাই ফলন ভাল হলে তাদের সারা বছর ভাল যায়, আর ফলন ভাল না হলে তাদেরকে পড়তে হয় খাদ্য সঙ্কটে। জুমের উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফলফলাদির চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে পাহাড়ের বেশীর ভাগ মানুষ। তবে আবহাওয়া ভাল থাকায় এবছর ফলন বেশ ভাল হওয়ায় খুশি জুমিয়ারা। জুমিয়া চাষীরা জানান, প্রতিবছরেই জুম চাষ করা হয়। তার মধ্যে সিম, বরবটি, ভুট্টা লাগাই, আর মিষ্টি কুমড়া ফলন ভালো হয় বলেন তারা।
এদিকে ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে জেলার সকল উপজেলায় চাষীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়ার কথা জানায় কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘এ বছর জুমের আবাদ ৮,৩৬০ হেক্টর অর্জন হয়েছে। এটা আমরা আশা করছি এখানে ফলন হবে ১৪,০০০ মেট্রিক টন।’
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার টন। জুমের প্রাচুর্যে খুশির স্রোত বইছে জুমিয়াদের ঘরে ঘরে। কিন্তু শুধু ফলন নয়, পাহাড়ের মানুষগুলো চায়- আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শতবর্ষী ঐতিহ্য জুম চাষ যেন যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে।