সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

তৃণমূলে অনির্বাচিতদের আধিপত্য: থমকে আছে সেবা, বাড়ছে হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি প্রোথিত থাকে তার শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গভীরে | তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার হলো এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো | কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন, ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার কবলে নিপতিত হয়েছে | নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি এবং তাদের স্থলে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগের ফলে সমগ্র দেশের নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থা কার্যত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে | সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন ও অতি প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাগুলো পেতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন | সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই এখন এক চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে |

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের অন্তত এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচিত মেয়াদ আইন অনুযায়ী শেষ হতে যাচ্ছে | স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পদ হারাবেন | দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের দিন থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ঠিক ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন করে আরেকটি নির্বাচন আয়োজন করার সুস্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে | কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ না করে, তৃণমূলের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে অনির্বাচিত প্রশাসকদের হাতে | স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অন্তত ১৪৪ জন প্রশাসককে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে | নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রশাসকদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তা, আবার অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে |

ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বৃহত্তর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্রও অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক | ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের গণহারে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে | এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের এবং একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হয় | একইভাবে ১৯ আগস্ট তারিখে তিন শতাধিক পৌরসভার মেয়র, সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকেও তাদের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছিল | আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত অথবা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া এই জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান | এরপর থেকে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে সাধারণ নাগরিকরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দৈনন্দিন সেবা নেওয়ার চেষ্টা করে চরমভাবে সংগ্রাম করছেন | সিটি করপোরেশনগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পৌরসভাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন | বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এখন সাবেক কাউন্সিলর বা কমিশনারদের দৈনন্দিন গুরুদায়িত্বগুলো পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন |

অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে প্রান্তিক নাগরিকদের ভোগান্তি কতটা চরমে পৌঁছেছে, তার অসংখ্য বাস্তব ও করুণ উদাহরণ দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে আছে | যেমন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল চৌধুরী অত্যন্ত সহজ সরলভাবে আশা করেছিলেন যে, তার নাগরিকত্ব সনদের নামের একটি সাধারণ ভুল হয়তো খুব সহজেই সংশোধন করা যাবে | কিন্তু ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে না পারায় এবং তার পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে না পারায়, এক মাস ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেও তিনি এই সামান্য কাজটি সম্পন্ন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন | অন্যদিকে, রাজশাহীর কেশরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনস্থ হরিদাগাছী গ্রামের বাসিন্দা রায়হান আলী তার বাবার নামে একটি অত্যাবশ্যকীয় ট্রেড লাইসেন্স বের করার জন্য প্রায় দেড় মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন, তবুও তার কাজটি আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি | জামালপুরের দড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাওন মোল্লাকে একটি সাধারণ নাগরিকত্ব সনদের জন্য পরের দিন আবার অফিসে আসতে বলা হয়, অথচ পূর্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আমলে এই সাধারণ কাজটি সম্পন্ন করতে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগত | বরিশালে জন্ম নিবন্ধনের মতো জরুরি সেবার খোঁজে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে গিয়েছিলেন নিয়াজ মোর্শেদ | তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে পেতে তাকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে | সিলেটে সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তুহিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন যে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রায়ই ফোন ধরেন না এবং তাদের সঙ্গে দপ্তরে সরাসরি দেখাও করা যায় না | একই এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদ খানের মতে, একটি মাত্র নথির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে প্রতিনিয়ত ঘুরতে হচ্ছে এবং নিরুপায় হয়ে তারা দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন |

সার্বিকভাবে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তির চিত্র প্রায় একই রকম ভয়াবহ | আগে যেসব নাগরিক সেবা পেতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা বড়জোর এক দিন সময় লাগত, বর্তমানে সেই একই কাজের জন্য নাগরিকদের ১০ থেকে ১২ দিন, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পুরো এক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে | রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের মতো অত্যন্ত জরুরি স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজগুলো মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে | ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশান সনদ এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জীবনরক্ষাকারী আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে | ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড সচিবরা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন যে, আগে নির্বাচিত কাউন্সিলররা জরুরি সনদে অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখতেন, যার ফলে সচিবরা দ্রুত নথিপত্র যাচাই করে তা নাগরিকদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে দিতে পারতেন | কিন্তু বর্তমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, ওয়ার্ড সচিবরা প্রথমে আবেদনপত্রগুলো প্রাথমিক যাচাই করে তা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠান | সেখানে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা আরেক দফা কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে তবেই সনদে স্বাক্ষর করেন | একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাধারণত সাত থেকে দশটি ওয়ার্ডের বিশাল দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয়, যার ফলে তাদের কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং প্রতিদিন ফাইলের বিশাল স্তূপ টেবিলে জমা হচ্ছে |

অতিরিক্ত দায়িত্বের ভারে খোদ সরকারি কর্মকর্তারাও যে কতটা বিপর্যস্ত এবং অসহায়, তা তাদের নিজেদের বক্তব্য থেকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে | উদাহরণস্বরূপ, সহকারী বন সংরক্ষক নাঈমা আক্তার বর্তমানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন | এর পাশাপাশি তাকে নিজের দপ্তরের বন সংরক্ষণের নিয়মিত কাজ এবং অন্য দুটি জেলার অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে | তিনি গণমাধ্যমকে অত্যন্ত আক্ষেপ করে জানিয়েছেন যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে একজন নির্বাচিত কাউন্সিলরের মতো করে নিয়মিত ওয়ার্ড অফিসে বসা বা নাগরিকদের সময় দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না | দুর্গাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আলী জানান, তাদের পৌরসভার নিযুক্ত প্রশাসক কেবলমাত্র মাসিক সভা বা খুব জরুরি কোনো কাজ ছাড়া কখনোই এলাকায় আসেন না | ওই পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর আঞ্জু | তিনি তার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাধ্য হয়ে এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে | বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রেফায়েতুল হায়দারকে সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে | কিন্তু বিশাল স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আজ পর্যন্ত একবারও ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ড অফিসে পরিদর্শনে যেতে পারেননি | ওয়ার্ড সচিবরাই বাধ্য হয়ে তার স্বাস্থ্য দপ্তরের অফিসে গিয়ে বিভিন্ন ফাইলপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসেন | কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, নিজের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি দুই-তিনটি ওয়ার্ডের বিপুল মানুষের দায়িত্ব সামলানো অত্যন্ত কঠিন | মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখেও তিনি তা যথাযথভাবে সমাধান করতে পারছেন না এবং এভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সত্যিই আর সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন | সিলেট সিটি করপোরেশনে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে আসা ১৪ জন কর্মকর্তাকে ৪২টি ওয়ার্ড দেখাশোনার বিশাল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য এক অসম্ভব ও অবাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে |

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব শুধুমাত্র নথিপত্র বা দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতিকেও ভয়ানকভাবে বিনষ্ট করছে | পূর্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সালিশি বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন | কিন্তু বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজের বাইরে সাধারণত এই ধরনের সামাজিক বিরোধ মেটানোর বাড়তি দায়িত্ব গ্রহণ করেন না | জামালপুরের ৬৮টি ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ জনপ্রতিনিধি ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে আত্মগোপনে থাকায় সেখানে এক ভয়াবহ সামাজিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে | ফলশ্রুতিতে, যেসব ছোটখাটো সামাজিক বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আগে মাত্র এক বসাতেই সম্মানজনকভাবে মীমাংসা হয়ে যেত, সেগুলো এখন বড় আকার ধারণ করে মামলা-মোকদ্দমা, ভয়াবহ মারামারি, হামলা, পালটা হামলা এবং এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো চরম পরিণতির দিকে গড়াচ্ছে | কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেছেন যে, প্রায় প্রতিদিনই রাতের আঁধারে তাদের ডিশ-লাইনের সংযোগ তার কেটে দেওয়া হচ্ছে | আগে এ ধরনের সমস্যাগুলো স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে নিয়ে গেলে খুব সহজেই তার একটি দ্রুত সমাধান পাওয়া যেত, যা এখন একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে |

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নগ্ন প্রভাব বিস্তারের চাঞ্চল্যকর তথ্যও ইতোমধ্যে জনসমক্ষে উঠে এসেছে | স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও একাধিক জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকরা মন্ত্রণালয়ে নামের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন | তাদের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মূলত প্রশাসক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হচ্ছে | আগস্ট মাসে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুর উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল | সেপ্টেম্বরে বরগুনা জেলার সদর ও আমতলী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদেও সরকারি কর্মকর্তারা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান | কিন্তু এর বাইরে দেশের অনেক জায়গায় দলীয় নেতাকর্মীদেরও অনৈতিকভাবে প্রশাসকের চেয়ারে বসানো হচ্ছে | উদাহরণস্বরূপ, জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নূরনবী ভূঁইয়া | শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের আরও ১২ জন নেতানেত্রীকে ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে | একইভাবে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়ন এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও ক্ষমতাসীন দলের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে |

কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুদ্দিন আহমেদ লেনিন গণমাধ্যমকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সাধারণ মানুষ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে যেভাবে নিজেদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারেন, একজন সরকারি প্রশাসকের কাছে সেভাবে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয় | যেহেতু প্রশাসক বা ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তাই নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তিতে প্রতিনিয়ত নানামুখী জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে | বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে পৌরসভার পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন | সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর কুমিল্লা শাখার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেছেন, গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে | স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত বেশি বিলম্বিত হবে, সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন | কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মিয়া উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদে এখনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বহাল আছেন, সেখানে জন্ম নিবন্ধনের মতো সেবাগুলো মাত্র এক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে | অথচ প্রশাসক শাসিত এলাকাগুলোতে এর জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় | পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন যে, একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতো এত সহজে এবং সাবলীলভাবে সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান করা তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ | জামালপুর পৌরসভার একজন নির্বাহী কর্মকর্তা পরিস্থিতি চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অফিসে আসেন এবং দাপ্তরিক নিয়মের মধ্যে কঠোরভাবে বাঁধা থাকেন | কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে গভীর রাতেও নাগরিকদের সেবা প্রদান করতে পারেন এবং মানুষ জরুরি প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে গিয়েও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে পারেন, যা বর্তমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অসম্ভব |

সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই চলমান অচলাবস্থাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং গণতন্ত্রের পরিপন্থি বলে আখ্যায়িত করেছেন | সুপ্রিমকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডক্টর শাহদীন মালিক মনে করেন যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে পরিচালনা করাটা সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয় | সংবিধানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেবলমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারাই পরিচালিত হবে | তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি বিশেষ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুব অল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াটা হয়তো কিছুটা গ্রহণযোগ্য ছিল, কিন্তু মাসের পর মাস ধরে এ অবস্থা কিছুতেই চলতে পারে না | সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ডক্টর বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোন নির্বাচন ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হবে তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা আয়োজন না করা ওই নির্দিষ্ট আইনের সরাসরি লঙ্ঘন | তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে সংসদ-সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব অবশ্যই বন্ধ করতে হবে | অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বদিউল আলম মজুমদার আরও বিশ্বাস করেন যে, নির্বাচন নিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না | নির্বাচন যদি এভাবেই বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ একদিকে চরমভাবে সেবা বঞ্চিত হবেন এবং অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হারিয়ে চিরতরে অকেজো হয়ে পড়বে |

বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার এক চরম বৈপরীত্য ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে | বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অত্যন্ত শক্তিশালী করার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তা তৃণমূল নাগরিকদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছিল | ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, দেশ কেবল ঢাকা শহরের সচিবালয় থেকে পরিচালিত হবে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে | যেখানে সমস্যা বিদ্যমান, ঠিক সেখানেই তার সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন | সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৃত্যুজনিত কারণ বা আদালতের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই সরকারি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে ইশতেহারে কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল | তাছাড়া, জনগণের ভোটের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমস্ত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করার কথাও তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছিলেন | কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর, বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চরম অনাগ্রহ দেখিয়ে চলেছে এবং প্রশাসনিক নিয়োগ সীমিত করার প্রতিশ্রুতি থেকে তারা দৃশ্যত অনেকটাই সরে এসেছে |

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়েও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এক ধরনের প্রকট সমন্বয়হীনতা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করছে | গত ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে | পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অত্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, ১২ নভেম্বর থেকে মোট সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে | কিন্তু সরকারের তরফ থেকে এই ঘোষণার অত্যন্ত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয় | স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই নির্বাচন পরিকল্পনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি | পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে | নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করার মতো ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি | এই উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তবে জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শুরু করার জন্য তারা এখন জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ডক্টর আবদুল মঈন খান ও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এসব সার্বিক বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি |

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় চার হাজার সাতশটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন করার আইনি ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে | এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৩৮০০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে | সর্বশেষ ২০২১ এবং ২০২২ সালে মোট সাতটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল | এর মধ্যে ২০২১ সালের ২১ জুন ২০৪টি, ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০টি, ১১ নভেম্বর ৮৪৮টি, ২৮ নভেম্বর ১০০৭টি এবং ২৩ ডিসেম্বর ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় | পরবর্তী বছর ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ৭০৭টি, ৩১ জানুয়ারি ২১৯টি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল | এই হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ের প্রথম চার ধাপে অনুষ্ঠিত ৩ হাজার ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পাঁচ বছর মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে | চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বেশিরভাগ জেলার এক বা একাধিক উপজেলার ১৮৫০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে | ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে আরও প্রায় সাড়ে আটশ ইউপির | কিন্তু সরকারের আপত্তির কারণে চলতি বছরে এসব প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই | জানুয়ারি মাসে দুই থেকে তিন ধাপে কমবেশি দুই হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকিগুলোর নির্বাচন রোজা, ঈদ ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে | এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার যে, যতদিন পর্যন্ত না দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের এই চরম দুর্ভোগ ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানির কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না | গ্রামীণ উন্নয়নের ধারাকে সচল রাখতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত করতে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দ্রুত হস্তান্তর করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি|

তথ্যসূত্র: যুগান্তর ও টাইমস অফ বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর...