শিরোনামঃ
এম্পটি নেস্ট সিনড্রোম: সন্তান বিচ্ছেদের শূন্যতা—১০টি পরামর্শ পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার প্রতিবাদে ১২ অক্টোবর অনশন দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জেন-জিদের দিল্লিতে লকডাউন: ধ্রুব রাঠি-দীপকের পর এবার আটক কেজরিওয়াল-মমতা ব্যানার্জি, যন্তর মন্তরে ব্যাপক ধরপাকড় ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর ছয় মিনিটও সময় নেয়নি বিএনপি, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে: আখতার হোসেন হাম উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে : হুমায়ুন কবির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা : রুহুল কবির রিজভী
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা একা বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

মানবিক কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই সংকটের ভার একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তান্বুলে ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, নির্যাতন থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব বহন করতে গিয়ে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়ছে। এ সংকটের ভার বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়, এমন প্রত্যাশা করাও উচিত নয়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা, নাগরিকত্ব ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। কক্সবাজারে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সফর এবং সংকট সমাধানে দেশটির ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। তবে শুধু সংহতি প্রকাশ নয়, সহযোগিতাকে আরও টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ১ হাজার ৪০০-এর বেশি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ। চাকরি ও সরকারি সেবায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা নিজেদের দাবি ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনেও এসব ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সীমান্ত নির্ধারণ, জ্বালানি বাজার, মেধাস্বত্ব এবং চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তসীমান্ত বিরোধ বাড়ছে। এসব বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যেন শুধু ক্ষমতাবান ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা হতে হবে সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত। ন্যায়বিচার এমন সুযোগ হতে পারে না, যা কেবল ক্ষমতাবানদের নাগালে থাকে।

ঘোষণার বদলে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বিশ্ব এখন অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিতে ক্লান্ত। বড় বড় ঘোষণা বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে না, ডিজিটাল একচেটিয়াত্ব বন্ধ করতে পারে না কিংবা নিপীড়নের ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে না।

তিনি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। এমন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ববণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে কোনো দেশের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়—এমন সংকটগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা যায়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ইস্তান্বুল সামিটের মতো আয়োজন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিচারক, আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। সম্মিলিত আলোচনা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও ন্যায়সংগত, কার্যকর এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ৮ ও ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তান্বুলে ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্বের ৭৫টি দেশের বিচারমন্ত্রী, বিচারক, আইনবিদ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।

 


এ জাতীয় আরো খবর...