ফ্রিজকে আমরা অনেকেই খাবার সংরক্ষণের ‘ম্যাজিক বক্স’ মনে করি। ধারণাটি এমন যে, একবার ফ্রিজে ঢোকালে খাবার আর নষ্ট হবে না। কিন্তু ইউএসডিএ (USDA) এবং এফডিএ (FDA)-এর মতো আন্তর্জাতিক ফুড সেফটি গাইডলাইন বলছে ভিন্ন কথা। নির্দিষ্ট সময়ের পর ফ্রিজের খাবারও শরীরের জন্য ‘টাইম-বোমা’ বা বিষে পরিণত হতে পারে। পেটের পীড়া ও ফুড পয়জনিং থেকে বাঁচতে জেনে নিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬টি খাবার সংরক্ষণের সঠিক সময়সীমা।
১. রান্না করা ভাত ভাত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই ভুল করি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি রাখা একদমই নিরাপদ নয়। ভাতে ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ (Bacillus cereus) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা পুনরায় গরম করলেও পুরোপুরি নষ্ট হয় না। এটি মারাত্মক ডায়রিয়া বা বমির কারণ হতে পারে। ভাত রান্না করার পর সাধারণ তাপমাত্রায় আসার ১ ঘণ্টার মধ্যেই তা ফ্রিজে তুলে রাখা উচিত।
২. কাঁচা মাছ ও মাংস বাজার থেকে আনা কাঁচা মুরগি, গরুর মাংস বা মাছ সাধারণ ফ্রিজে (Normal Fridge) ১ থেকে ২ দিনের বেশি রাখা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই ডিপ ফ্রিজ ব্যবহার করতে হবে।
মাছ: ডিপ ফ্রিজে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
মাংস: ডিপ ফ্রিজে ৯ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।
সতর্কতা: বরফ গলানো মাংস পুনরায় ডিপ ফ্রিজে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. ডিম অনেকেই ফ্রিজের দরজায় ডিম রাখেন, যা একদম ভুল। কারণ দরজা বারবার খোলার ফলে সেখানকার তাপমাত্রা স্থির থাকে না।
কাঁচা ডিম: ফ্রিজের মূল তাকে রাখলে ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।
সেদ্ধ ডিম: খোসা না ছাড়ানো সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে মাত্র ১ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা নিরাপদ। এর বেশি হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
৪. সবজি সবুজ শাক বা পাতা জাতীয় সবজি ফ্রিজে ২ থেকে ৩ দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়, এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। তবে গাজর, ফুলকপি বা ব্রকলির মতো সবজি বায়ুরোধক ব্যাগে ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখার আগে সবজি ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি, নতুবা আর্দ্রতার কারণে দ্রুত পচন ধরতে পারে।
৫. তরল দুধ দুধের প্যাকেট বা বোতল খোলার পর তা ফ্রিজে ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে। দুধ ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের দিকের ঠান্ডা অংশে রাখা ভালো। যদি দুধের রঙ বা গন্ধে সামান্যতম পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে তা পান করা থেকে বিরত থাকুন।
৬. বাটা মসলা আদা, রসুন বা পেঁয়াজ বাটা সাধারণ ফ্রিজে বড়জোর ১ সপ্তাহ পর্যন্ত সতেজ থাকে। এরপর মসলার স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন আসে এবং ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য ছোট এয়ার-টাইট বক্সে ভরে মসলা ডিপ ফ্রিজে ১ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
সতর্কতা সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে সঠিক নিয়মে খাবার সংরক্ষণ করা জরুরি। ফ্রিজের খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই এর রঙ, গন্ধ এবং সংরক্ষণের মেয়াদের দিকে লক্ষ্য রাখুন।