শিরোনামঃ
ছানি অপারেশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন পিংক বাস: প্রয়োজনীয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সমাধান নয় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা মার্কিন আদালতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল গ্যাস সংকট: তবু অর্ডার কমেনি পোশাক কারখানায রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ কম বিএনপির মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে হলো বায়ান্ন, উপদেষ্টার সংখ্যা সর্বোচ্চ
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

ইতিহাসের পাতায় ‘ত্রয়োদশ নির্বাচন’: রেকর্ড সংখ্যক দল ও প্রতীকের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ৭৯ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চালুর পর এবারই প্রথমবারের মতো সর্বাধিক সংখ্যক দল ও প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতীকের ছড়াছড়ি ও নতুনত্ব

এবার ভোটাররা ব্যালট পেপারে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিসহ মোট ১১৯টি প্রতীক দেখতে পাবেন। এর পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগও থাকছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাত্র ২৮টি দল অংশ নিয়েছিল এবং ৬৯টি প্রতীকে ভোট হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

দলের অবস্থান ও প্রার্থী বিন্যাস

  • বড় দলগুলোর অবস্থান: বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৪ জন এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯২ জন প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে।

  • অন্যান্য দল: গণ অধিকার পরিষদ (৯০), সিপিবি (৬৫), বাসদ (৩৯), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (৩৪), জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি (৩২), এবি পার্টি (৩০) সহ বিভিন্ন দল তাদের প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে।

  • অনুপস্থিতি: আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে নেই। এছাড়া ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা নির্বাচন বর্জন করলেও জাসদের ৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে।

অতীতের নির্বাচনের খণ্ডচিত্র

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনে ২৯৩টি আসন নিয়ে একচেটিয়া জয় পায় আওয়ামী লীগ। এরপর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে জিয়াসরকারের অধীনে বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করে, যদিও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন প্রধান দলগুলো বর্জন করেছিল।

১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি জিতলেও মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয় সেই সংসদ। পরবর্তীতে ওই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ১৯৩টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচন ‘আমি ও ডামি’ নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায় এবং মাত্র ছয় মাসের মাথায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন ঘটে।

এবারের এই নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...