শিরোনামঃ
ছানি অপারেশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন পিংক বাস: প্রয়োজনীয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সমাধান নয় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা মার্কিন আদালতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল গ্যাস সংকট: তবু অর্ডার কমেনি পোশাক কারখানায রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ কম বিএনপির মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে হলো বায়ান্ন, উপদেষ্টার সংখ্যা সর্বোচ্চ
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

গ্যাস সংকট: তবু অর্ডার কমেনি পোশাক কারখানায

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি গ্যাসের তীব্র খরা চললেও স্বস্তির বিষয় হলো আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতারা বা বায়াররা এখনও বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার কমিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থান ধরে রাখলেও বিগত দুই বছর ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জেরে জ্বালানি সাপ্লাই চেইনে বিপর্যয় এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের গোলযোগ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। তা সত্ত্বেও দেশের বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় কারখানার মালিকরা অতিরিক্ত খরচ করে হলেও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে সময়মতো পণ্য বা শিপমেন্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসামগ্রী ব্র্যান্ড পুমা এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় বাজারের বিভিন্ন নামী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ঢাকা অফিসের প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে তাদের ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে অর্ডার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ডারের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধিও পেয়েছে। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা জানিয়েছেন যে গ্যাসের অনুপস্থিতির কারণে তাদের বয়লার সচল রাখতে বাধ্য হয়ে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাসের তুলনায় ডিজেল বা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি হওয়ায় কোম্পানির মুনাফার মার্জিন মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং শ্রমিকদের চাকরি ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের এই বহুমুখী প্রভাব মোকাবিলা করতে কারখানাগুলো বহুমুখী বিকল্পের পথ বেছে নিয়েছে। অনেক টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল এখন গ্যাসের পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে ভুষি বা রাইস হাস, কাঠ এবং সোলার পাওয়ার ব্যবহার করে বয়লার ও জেনারেটর সচল রাখার চেষ্টা করছে। মেথেলা গ্রুপের মতো বড় কারখানায় গ্যাসের নির্ধারিত চাপের মাত্রা দশ পিএসআইয়ের জায়গায় শূন্য থেকে এক পিএসআইয়ে নেমে আসায় উৎপাদন ক্ষমতা ষাট শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে পর্যাপ্ত ক্রেতার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক কারখানা নতুন অর্ডার নিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বা বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন যে একটি ইউরোপীয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি এড়াতে তাদের অর্ডারের পরিমাণ এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিলেও সার্বিকভাবে অধিকাংশ বায়ার এখনও আস্থা বজায় রেখেছে।
শিল্প খাতের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে পূর্বে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল মিলছে না। পোশাক ও বস্ত্র খাতের এই ব্যাকবোন বা মেরুদণ্ড টিকিয়ে রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ সামাল দিতে উদ্যোক্তারা অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের বোঝা বইতে না পেরে মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের শত বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


এ জাতীয় আরো খবর...