ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১০টি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপ্রধানের পদে লিঙ্গীয় পরিবর্তন। ১৯৯০-এর পর থেকে বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের যে ধারায় অভ্যস্ত ছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেখান থেকে বেরিয়ে নতুন এক যুগে পদার্পণ করছে দেশ।
ধারণা করা হচ্ছে, তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখ দেখা যাবে। গত কয়েক বছরে রাজপথের আন্দোলন এবং বিদেশের মাটিতে কূটনৈতিক লবিংয়ে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। পাশাপাশি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসের মতো প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
বিএনপির সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করা জামায়াতে ইসলামী (৭০ আসন) এবং অন্যান্য মিত্র দলগুলো থেকে মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব এবং ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-এর অঙ্গীকার পূরণে একটি ছোট কিন্তু কার্যকর মন্ত্রিসভার প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।
নতুন মন্ত্রিসভার সামনে প্রথম ১০০ দিনের চ্যালেঞ্জ হবে আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কেয়ার’ নিশ্চিত করা। তারেক রহমান আগেই ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার হবে ‘মেরিট-বেসড’। অর্থাৎ দলীয় পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে গণভোটে ‘না’ ভোটের যে প্রবণতা (যেমন বান্দরবানে দেখা গেছে), তা নতুন সরকারকে সতর্ক বার্তা দেয় যে—জনগণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জবাবদিহিতা চায়। বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কারই হবে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম ও প্রধান কাজ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিজয় একটি মাইলফলক। তারেক রহমানের সামনে এখন পাহাড়সম প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশার চাপ সামলে তিনি যদি একটি দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রিসভা উপহার দিতে পারেন, তবেই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ পুনর্গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।