রাজনীতির মাঠ যে কতটা অনিশ্চিত, তার জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দীর্ঘ কারাবাস, মাথার ওপর ঝুলন্ত মৃত্যুদণ্ড এবং প্রহসনের বিচার—সব শঙ্কা পেছনে ফেলে তারা এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
জুলাই বিপ্লবের রক্তস্রোতে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে যায় নাটকীয়ভাবে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি পেয়ে এই তিন নেতা দাঁড়িয়েছিলেন জনতার কাঠগড়ায়। আর সেখানেই তারা পেলেন বিপুল জনসমর্থন ও বিজয়ের দেখা।
লুৎফুজ্জামান বাবর: ১৮ বছরের কারাবাস শেষে সংসদে
২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর তার জীবন কেটেছে কারাগারের অন্ধকারের প্রকোষ্ঠে। জামিন মেলেনি একদিনের জন্যও। প্রিজন ভ্যান থেকে মলিন মুখে বাবরের হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল মানুষের কাছে অতি পরিচিত। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর কখনোই তিনি মুক্ত আলোয় ফিরতে পারবেন না।
কিন্তু গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান তিনি। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে ফিরে যান নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। এবারের নির্বাচনে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
আবদুস সালাম পিন্টু: ফাঁসির দণ্ড থেকে বিপুল জয়ে
বাবরের মতোই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন আরেক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাস শেষে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। এরপর ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রায় ২ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম: ফাঁসির মঞ্চ থেকে বিজয়
ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে দীর্ঘ এক যুগ কারাবন্দি ছিলেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত বছরের ২৮ মে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সেখানে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এই জামায়াত নেতা। কিছুদিন আগেও যেখানে তার জীবন ছিল ফাঁসির দড়ির শঙ্কায়, আজ সেখানে তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন।