ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা একঝাঁক তরুণ-তরুণী এবার সংসদ অধিবেশন কাঁপানোর অপেক্ষায়। সংস্কার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এদের অনেকেই বিগত সরকারের আমলে ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্বৈরাচারী শাসনের সময় নানাভাবে নির্যাতিত ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা জনরায়ে এবার বিজয়ী হয়ে সংসদে আসছেন। বহুবছর পর এবারের সংসদে দেশবাসী নানা শ্রেণি-পেশা এবং বিভিন্ন বয়সের জনপ্রতিনিধিদের দেখতে পাবেন, যা একটি অংশগ্রহণমূলক সংসদের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের নায়করা
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা এবার এমপি হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), এনসিপির আহ্বায়ক।
আখতার হোসেন (রংপুর-৪), সদস্য সচিব।
হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল)।
হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক।
ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২), যুগ্ম আহ্বায়ক।
আব্দুল্লাহ আল-আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক।
বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র তরুণ মুখ
বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন আলোচিত তরুণ নেতা:
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), বিজেপি চেয়ারম্যান।
ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), এনডিএম চেয়ারম্যান।
জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী।
নুরুল হক নুর, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী।
জামায়াতের তরুণ তুর্কিরা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত তরুণ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), বহুল আলোচিত ইসলামি বক্তা।
ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম (আরমান) (ঢাকা-১৪), আয়নাঘর থেকে ফেরা জামায়াত নেতা।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে।
মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে।
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১) ও মো. সালাউদ্দিন (গাজীপুর-৪), ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
নতুন দিনের প্রত্যাশা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরব উপস্থিতি থাকা এই তরুণ নেতারা সমাজ, দেশ ও রাজনীতির বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন। তারা পুরাতন ধারার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বৈষম্যহীন ও সুস্থ ধারার রাজনীতির স্বপ্ন দেখান। তরুণ প্রজন্ম তাদের অনুসরণ করে এবং এবারের সংসদে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে দেশবাসী প্রত্যাশা করছে।