শিরোনামঃ
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা ও নীতিমালা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নানা সংকটেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করছে সরকার: রিজভী স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই : রাশেদ খাঁন দক্ষ জনশক্তি গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী শুমারির মাধ্যমে দেশের সব নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজাতে আসছে হেলথ হাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পুলিশের ৫ কর্মকর্তা গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য হচ্ছে নতুন অধিদপ্তর সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

‘ডিপ স্টেট’: অদৃশ্য সুতোয় ক্ষমতা নাড়েন যারা

বিশেষ প্রতিনিধি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৯০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রাজনীতির মঞ্চে আমরা যাদের দেখি—প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা এমপি—তারা কি আসলেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী? নাকি তাদের আড়ালে এমন এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করে, যারা কলকাঠি নেড়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, এমনকি সরকার বদলেও ভূমিকা রাখে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই অদৃশ্য ও প্রভাবশালী চক্রটিই ‘ডিপ স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ নামে পরিচিত।

সম্প্রতি এই শব্দটি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘ডিপ স্টেট’ তত্ত্ব নিয়ে চলছে তুমুল বিশ্লেষণ।

ডিপ স্টেট আসলে কী?

সহজ কথায়, ডিপ স্টেট হলো একটি গোপন ও অনির্বাচিত ক্ষমতার বলয়, যা নির্বাচিত সরকারের বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। এরা সাধারণত সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ এবং ধনিক শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক।

এই গোষ্ঠীর মূল কাজ হলো, ক্ষমতায় যে রাজনৈতিক দলই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের মূল নীতি এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা। নির্বাচিত সরকার যদি তাদের এজেন্ডার বাইরে যায়, তবে তারা সেই সরকারকে অস্থিতিশীল বা উৎখাত করতেও পিছপা হয় না।

শব্দটির উৎপত্তি ও বিস্তার

‘ডিপ স্টেট’ শব্দটির উৎপত্তি তুরস্কে (তুর্কি ভাষায় ‘দেরিন দেভলেত’)। নব্বইয়ের দশকে তুরস্কে সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাফিয়াদের একটি গোপন জোটকে বোঝাতে এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়েই ব্যবহৃত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সময় বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে, এফবিআই এবং সিআইএ-র মতো সংস্থার কিছু কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, যা ‘ডিপ স্টেট’-এর অস্তিত্বের বিতর্ককে উস্কে দেয়। মিশরে বা পাকিস্তানেও শক্তিশালী সামরিক এস্টাবলিশমেন্টকে বোঝাতে প্রায়ই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ডিপ স্টেটের ছায়া

ভিডিও এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বরাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ‘ডিপ স্টেট’ ধারণাটি দুটি মাত্রায় আলোচিত হচ্ছে:

১. অভ্যন্তরীণ ডিপ স্টেট: যেখানে দেশের ভেতরের আমলাতন্ত্র বা কোনো বিশেষ বাহিনী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

২. বিদেশি ডিপ স্টেট: ভিডিওটিতে মূলত এই দিকটির ওপরই আলোকপাত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর নিজস্ব ‘ডিপ স্টেট’ (পেন্টাগন, সিআইএ বা তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অংশ) দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। অভিযোগ করা হয়, তারা মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তাদের পছন্দের সরকার বসাতে বা অপছন্দের সরকারকে হটাতে কাজ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে অনেকেই বিদেশি এই ‘ডিপ স্টেট’-এর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ছাপ দেখতে পাচ্ছেন। তাদের মতে, প্রকাশ্য কূটনীতির বাইরেও পর্দার আড়ালে যে ‘অদৃশ্য হাত’ কাজ করে, সেটিই মূলত ক্ষমতার পালাবদলের প্রকৃত কারিগর।

উপসংহার

‘ডিপ স্টেট’ কি নিছক একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, নাকি রূঢ় বাস্তবতা? রাজনীতির স্বাভাবিক চোখে একে দেখা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন কোনো নির্বাচিত সরকার হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা কোনো শক্তিশালী নেতার পতন ঘটে কোনো আপাত কারণ ছাড়াই—তখনই প্রশ্ন জাগে, এই কলকাঠি কি তবে ডিপ স্টেটের হাতেই?


এ জাতীয় আরো খবর...