অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে আজ নতুন রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে বিশাল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের কাঁধে চাপছে ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।
ঋণের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সরকার আরও ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংক খাত থেকে এবং ১০৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের (প্রায় ১৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকা) নিট বৈদেশিক ঋণ এসেছে। সব মিলিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায়।
বেসরকারি খাতে ঋণের খরা
সরকারের অতিরিক্ত ঋণগ্রহণের ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট ও সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। একে অর্থনীতির ভাষায় ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলা হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে ধরে রাখায় ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়ে ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬.১ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার (৭.২%) চেয়েও কম।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে। রাজস্ব আয়ে ঘাটতি থাকায় এই ব্যয় মেটাতে সরকারকে আরও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএপিএলসি প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ।