দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক সংগ্রাম আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যাত্রার সূচনা হয়েছে।
শপথ নিলেন জনপ্রতিনিধিরা
আজ সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে শপথ নেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ শেষে তারা শপথবইয়ে স্বাক্ষর করেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির কেউ শপথ নেননি।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শপথ গ্রহণের পরপরই দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হলো যে, তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার পর এবার তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ফিরছে, যা দলটির নেতাকর্মীদের জন্য এক আবেঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: অপেক্ষায় দক্ষিণ প্লাজা
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ হলেও সবার দৃষ্টি এখন বিকেলের দিকে। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়াবেন। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ হলেও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রতীক হিসেবে এবার এই আয়োজন সংসদ ভবনের খোলা চত্বরে করা হচ্ছে।