শিরোনামঃ
‘বাংলার জয়যাত্রা’ ছাড়িয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইনেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা: উপজেলা চিকিৎসকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের ২ মাসেই সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন: মাহদী আমিন ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু রাজনীতির ‘বসন্তের কোকিল’ বনাম তৃণমূলের দীর্ঘশ্বাস: টিকে থাকবে কে? তেলতেলে বিশ্বনীতি: আবারও কি বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় বাংলাদেশ! এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন স্রেফ গুজব: রুমিন ফারহানা কোচিং বাণিজ্য রোধ ও স্কুল সংস্কারে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দায় পৌঁছাল প্রথম হজ ফ্লাইট
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

ধর্মের নামে ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধোন্মাদনার তীব্র নিন্দা পোপ লিওর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ধর্মের নামে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, যুদ্ধ এবং এর পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও। ক্যামেরুন সফরের সময় এক কঠোর বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে ‘মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন’ এবং এসব নেতারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি ও ফায়দা লুটতে ধর্মের পবিত্র নাম ব্যবহার করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার মাত্র কয়েক দিন পরই ক্যামেরুনের বামেন্ডা শহরে এই জোরালো ও সাহসী বক্তব্য দিলেন পোপ লিও।

আফ্রিকা সফরে ট্রাম্পের ছায়া ও উদ্বেগ

পোপ লিও এমন এক সময়ে আফ্রিকা সফরে এসেছেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বাচিক যুদ্ধ তুঙ্গে। গত মঙ্গলবার রাতে পোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা আফ্রিকাজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই মহাদেশে বাস করেন।

১০০ কোটি সদস্যের বিশাল চার্চের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বছরের অধিকাংশ সময় পোপ লিও অনেকটা নিভৃতেই ছিলেন। তবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতি তাঁকে বিশ্বমঞ্চে একজন সোচ্চার ও প্রভাবশালী সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত করেছে।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার’

বামেন্ডা শহরে দেওয়া বক্তব্যে পোপ লিও সেই সব নেতার কঠোর সমালোচনা করেন, যাঁরা যুদ্ধের পেছনে সুকৌশলে ধর্মীয় অজুহাত দাঁড় করান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে পোপ বলেন, “ধিক্কার জানাই তাঁদের, যাঁরা নিজেদের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ধর্ম এবং খোদ ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে পবিত্রতাকে অন্ধকার ও আবর্জনার স্তরে নামিয়ে আনেন। এটি এক উল্টে যাওয়া পৃথিবী। ঈশ্বরের সৃষ্টির এমন অপব্যবহার অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”

হাত রক্তে রঞ্জিত: পিট হেগসেথের প্রতি ইঙ্গিত

এর আগেও গত মাসে পোপ প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, যেসব নেতার হাত রক্তে রঞ্জিত, ঈশ্বর তাঁদের প্রার্থনা কবুল করেন না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পোপের এই মন্তব্য মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের প্রতি ইঙ্গিত ছিল। হেগসেথ ইরান যুদ্ধের পক্ষে খ্রিষ্টীয় যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, যা পোপের দৃষ্টিতে ধর্মবিরোধী।

ট্রাম্পের আক্রমণ ও পোপের অনড় মনোভাব

পোপের এসব মন্তব্যের জেরে গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোপ লিওকে ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে তীব্র আক্রমণ শুরু করেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ লিও নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণের কোনো সরাসরি জবাব তিনি দেবেন না, তবে ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্বশান্তি নিয়ে কথা বলা তিনি কোনোভাবেই বন্ধ করবেন না।


এ জাতীয় আরো খবর...