শিরোনামঃ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন

ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তেহরানের পাল্টা ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ওমান উপসাগরে ফের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’ (Tuska) জব্দের জেরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ঘটা এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন অভিযান ও ‘তুসকা’ জব্দ

চীন থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যাত্রা করা ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’ আটকের মধ্য দিয়ে এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ওমান উপসাগরে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, ইরানি জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল। থামার নির্দেশ অমান্য করায় মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ (USS Spruance) জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে আঘাত করে সেটিকে থামিয়ে দেয়। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন নৌসেনাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলা ও হুঁশিয়ারি

বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন এই হামলার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্গো জাহাজের নেভিগেশন সিস্টেম অচল করে দেওয়ার জবাবে ইরান মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে সফলভাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “এই সশস্ত্র হামলার জবাব দিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। খুব দ্রুতই এর চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

হুমকির মুখে ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি

এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে তীব্র উত্তেজনার জেরে চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপে গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে সেই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

ওমান উপসাগরে রবিবারের এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার চরম সংকট বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...