ভৌগোলিক সীমানা, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির ভিন্নতা—কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি ভালোবাসার পথে। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে উড়ে এসে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এক চীনা যুবক। দীর্ঘ এক বছরের অনলাইন সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে এই যুগলের চার হাত এক হলো।
পরিচয় থেকে পরিণয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরেই তাদের প্রথম পরিচয়। এরপর দূরত্ব ছাপিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা।
বর: চেন বাও মিং (Chen Bao Ming), পেশায় চীনের একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী।
কনে: তাসলিমা খাতুন (১৯), কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম বেহলা গ্রামের বাসিন্দা মধু মোল্লার মেয়ে।
সম্পর্কের মেয়াদ: অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে এই গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আদালতে চার হাত এক
সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) চেন বাও মিং বাংলাদেশে আসেন।
এরপর দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে এই নবদম্পতি ভেড়ামারায় তাসলিমার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
ভিন্ন সংস্কৃতি, অভিন্ন ভালোবাসা
নতুন জীবন শুরু করে উচ্ছ্বসিত দুই মেরুর দুই বাসিন্দা। নিজেদের অনুভূতির কথা তারা আনন্দের সাথেই ভাগ করে নিয়েছেন।
তাসলিমার অনুভূতি: তাসলিমা জানান, পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। চীনে অবস্থানরত বরের পরিবারের সাথেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এই পরিণয়ে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
চেন বাও মিংয়ের পরিকল্পনা: সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক ভিন্নতা সত্ত্বেও ভালোবাসাই তাদের এক করেছে বলে মনে করেন চেন। তাসলিমার পরিবারের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ এই চীনা যুবক জানান, খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র ও ভিসার কাজ সম্পন্ন করে স্ত্রীকে নিজের দেশ চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
স্থানীয়দের ব্যাপক কৌতূহল
বিদেশি বরের আগমনের খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) তাসলিমার বাড়িতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উৎসুক জনতা ভিড় জমান এই ভিনদেশি বর ও নবদম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ছাপিয়ে এই বিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।