জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ৯ হেভিওয়েট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে ৯ আসামি
এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরে তদন্ত শেষ করতে আরও তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন। তিনি আদালতকে জানান, ধাপে ধাপে অনেকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে, তবে বাকিদের তদন্ত আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামালের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন তলব
মানবতাবিরোধী অপরাধের অপর একটি মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের স্বাস্থ্য ও তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৬ জুলাই এই দুই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে তার আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামাল মজুমদারের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ওজন কমে যাওয়ায় তিনি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। আইনজীবী দাবি করেন, গত জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার অনেক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন চাওয়া হলেও, ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।
তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তিনি যুক্তি দেন, তার মক্কেল কেবল একজন উপদেষ্টা ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ১৪ দল বা সরকারের কোনো বৈঠকেই তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জামিন দাবি করেন।
তবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে আরও সময় চাইলে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৬ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
হুইলচেয়ারে এসে দীপু মনির সঙ্গে স্বামীর সাক্ষাৎ
এদিন ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ। আইনজীবী সিফাত মাহমুদের মাধ্যমে অনুমতি পাওয়ার পর হুইলচেয়ারে করে তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।