মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার রয়েছে, পশ্চিমাদের ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ কড়া সমালোচনা রাশিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে ইরানের পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সম্প্রতি এক বক্তব্যে তেহরানের পক্ষ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ‘ভণ্ডামি’ এবং ‘বেআইনি’ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও বাস্তবে তারা ‘জলদস্যুতার’ মতো আচরণ করছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ অধিকার

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পুরো দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি সুসংগঠিত চেষ্টা চলছে। পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমগুলো এমন একটি আবহ তৈরি করছে যেন মনে হয় ইরানই বিনা উসকানিতে তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করেছে।

নেবেনজিয়া যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো উপকূলীয় দেশ যদি যুদ্ধের সময় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজেদের জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার সার্বভৌম অধিকার রাখে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্ব ও ‘আধুনিক জলদস্যুতা’

পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করতে গিয়ে নেবেনজিয়া তাদের ‘জলদস্যুদের’ সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “জলদস্যুরা যেমন জাহাজে কঙ্কাল আঁকা কালো পতাকা উড়িয়ে সরাসরি আক্রমণ করে, পশ্চিমা দেশগুলো ঠিক তেমনটা করে না। তারা তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার’ বা ‘নিষেধাজ্ঞার’ আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে ইরানের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় মদদ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তাঁর মতে, এটি পশ্চিমাদের চরম ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।

কৃষ্ণসাগর বনাম হরমুজ প্রণালি

রুশ রাষ্ট্রদূত কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতির সঙ্গে হরমুজ প্রণালির তুলনা করে বলেন, ইউক্রেন যখন রাশিয়ার বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তখন পশ্চিমা দেশগুলো নীরব থাকে বা সমর্থন দেয়। কিন্তু ইরান যখন নিজের সীমানায় নিরাপত্তা জোরদার করে, তখন সেটিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণ বিশ্বব্যাপী সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...