শিরোনামঃ
‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না’: প্রধানমন্ত্রী ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী: গুলিতেই শেষ হলো মাফিয়া টিটনের অধ্যায় কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগুন আবারও গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলা পরমাণু চুক্তি ছাড়া নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ‘না’, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ট্রাম্পের ধাপে ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: প্রথম ধাপেই বাড়ছে মূল বেতন বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে ৭ জনের মৃত্যু ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে আসছে
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

টার্গেট কিলিং এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের আন্ডারওয়ার্ল্ড বা অপরাধজগৎ আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। টাকা-পয়সার ভাগাভাগি, চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকার একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে টার্গেট কিলিং বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যাকাণ্ড। আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারদের ইশারায় এবং বিদেশ থেকে দেওয়া নির্দেশে দেশে ঝরছে রক্ত। সদ্য কারামুক্ত হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তির আস্ফালন এবং দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা দাগি অপরাধীদের রিমোট কন্ট্রোল অপারেশনে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট একধরনের শূন্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাময়িক দুর্বলতার সুযোগে অপরাধজগতের এই পুরনো কুশীলবরা নতুন করে নিজেদের সাম্রাজ্য গুছিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই গভীর ও বিশদ প্রতিবেদনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বর্তমান পরিস্থিতি, টার্গেট কিলিংয়ের ছক, বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


টার্গেট কিলিংয়ের মাস্টারমাইন্ড: আপন ভগ্নিপতির নির্দেশে খুন টিটন

আন্ডারওয়ার্ল্ডের বর্তমান অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর উদাহরণ হলো গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় সংঘটিত খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন হত্যাকাণ্ড। টিটন ছিলেন ঢাকার অপরাধজগতের একসময়ের অন্যতম ত্রাস। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে মাস্টারমাইন্ডের নাম উঠে এসেছে, তা অপরাধজগতের নির্মমতাকেই নতুন করে প্রমাণ করে। অভিযোগ উঠেছে, টিটনের আপন দুলাভাই (ভগ্নিপতি) এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন সুদূর মালয়েশিয়া থেকে এই খুনের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই হত্যার মূল কারণ কোনো পারিবারিক কলহ নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে এলাকার আধিপত্য বিস্তার। টিটন কারামুক্ত হওয়ার পর হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। একসময় এই লাভজনক ও অভিজাত এলাকাগুলো ইমন, পিচ্চি হেলাল ও কিলার বাদলের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইমন কারাগার থেকে বের হয়ে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমালে এই শূন্যস্থান পূরণ করেন টিটন। নিজের হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতেই ইমন এই টার্গেট কিলিংয়ের ছক কষেন। পুলিশের ধারণা, ইমনের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে পিচ্চি হেলাল এবং কিলার বাদলও ইন্ধন জুগিয়েছেন, কারণ টিটনের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও আধিপত্যগত বিরোধ ছিল।


পটপরিবর্তনের সুযোগ ও কারামুক্ত সন্ত্রাসীদের দাপট

গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক রদবদল ঘটে। পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও কাঠামো সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রকরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সময়ে কারাগার থেকে আইনি ফাঁকফোকর বা জামিনে একে একে মুক্তি পান নব্বইয়ের দশক ও তৎপরবর্তী সময়ের কুখ্যাত বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী।

যারা কারামুক্ত হয়েছেন এবং তৎপরতা চালাচ্ছেন:

  • আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস

  • সুইডেন আসলাম

  • ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল

  • সানজিদুল ইসলাম ইমন (বর্তমানে মালয়েশিয়ায় পলাতক)

  • খন্দকার নাঈম ওরফে টিটন (সম্প্রতি খুন হয়েছেন)

  • খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু

এসব দাগি অপরাধী দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও তাদের নেটওয়ার্ক কখনোই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। মুক্তি পাওয়ার পর অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকেই তারা তাদের পুরোনো অনুসারীদের ডেকে পাঠাচ্ছেন। নতুন করে ক্যাডার বাহিনী গঠন করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং জবরদখল শুরু করেছেন। স্থানীয় কোনো উঠতি ক্যাডার বা ব্যবসায়ী তাদের এই কাজে সামান্য বাধা দিলেই তাদের পরিণতি হচ্ছে নির্মম হত্যাকাণ্ড।


এলাকাভিত্তিক অপরাধ সাম্রাজ্যের বর্তমান চিত্র

আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই পুনরুত্থানে ঢাকা শহর এবং এর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অলিখিতভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ। গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজির একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মিরপুর ও ভাসানটেক জোন:

মিরপুর-১০, ১৩, ১৪, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত ও ভাসানটেকসহ বিশাল একটি এলাকার একক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস ও ইব্রাহিম। মাস ছয়েক আগে তারা বিদেশে পালিয়ে গেলেও দেশে তাদের সক্রিয় ক্যাডার বাহিনী রয়ে গেছে। এই গ্রুপটি মূলত সরকারি-বেসরকারি ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। এমনকি তাদের সহযোগীরা ঠিকাদারদের বাধ্য করছে বাজারদরের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনতে।

২. মগবাজার ও শ্যামলী জোন:

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন এবং মোল্লা মাসুদ যথাক্রমে ভারত ও অন্যান্য দেশের কারাগারে বা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের সাম্রাজ্য এতটুকু টলেনি। সুব্রত বাইনের সেকেন্ড ইন কমান্ড নাজমুল হক মাসুম ওরফে চান্দি মাসুম বর্তমানে এই রাজত্বের হাল ধরেছেন। মগবাজার বাটাগলির ঘরজামাই সুমন, শ্যামলীর হাতকাটা সুমন, বাপ্পি, সাজ ও শরিফ মিলে পুরো এলাকার চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অবৈধ দেহব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

৩. বাড্ডা ও গুলশান জোন:

পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, যিনি ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে হত্যার পর বিদেশে পালিয়ে যান, তিনি বাড্ডা ও গুলশান এলাকার বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য এখনো রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালনা করছেন।

৪. চট্টগ্রাম জোন:

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ। একসময় তার দুই বিশ্বস্ত সহযোগী সারওয়ার হোসেন বাবলা এবং আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর তার হয়ে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে আলাদা গ্রুপ তৈরি করলে সাজ্জাদ নির্মম প্রতিশোধ নেন। এর ফলশ্রুতিতে গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গায় আকবরকে এবং ৫ নভেম্বর পাঁচলাইশে সারওয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


নব্বইয়ের দশকের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও বর্তমানের সংযোগ

ঢাকার বর্তমান আন্ডারওয়ার্ল্ড বুঝতে হলে নব্বইয়ের দশকের দিকে তাকাতে হবে। সে সময় ঢাকার অপরাধজগৎ মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল—সুব্রত বাইনের নেতৃত্বাধীন ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’ এবং যুবলীগ নেতা লিয়াকত ও মুরগি মিলনের নেতৃত্বাধীন ‘ফাইভ স্টার গ্রুপ’। এই সেভেন স্টার গ্রুপের হাতেই খুন হয়েছিলেন মুরগি মিলন। সুব্রত বাইনের উত্থান হয়েছিল ১৯৯১ সালে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা মুরাদকে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে নেপালের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সুব্রত বাইনের পালানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন তুলেছিল। বর্তমানে সরকারের পুরস্কার ঘোষিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১১ জনই বিদেশে আত্মগোপন করে আছে, যাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। পুরনো এই সন্ত্রাসীরাই এখন নতুন চেহারায় এবং নতুন অনুসারীদের মাধ্যমে মাঠে নেমেছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ

আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। টিটন নিহত হওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের কাছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিমও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, জামিনে মুক্ত অপরাধীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া কারাগার কর্তৃপক্ষকেও হাজতি ও বন্দি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কারাগারের ভেতর থেকে বাইরে কোনো নির্দেশ না যেতে পারে। ইন্টারপোলের সদর দপ্তরেও আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সমাধানের পথ

সন্ত্রাসীদের এই পুনরুত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপরাধ করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হলে সরকারকে অনতিবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে জোর দিতে হবে এবং এসব সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় চিরতরে বন্ধ করতে হবে।”

পরিশেষে বলা যায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই পুনরুত্থান দেশের সামগ্রিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক বিশাল হুমকি। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির কারণে উন্নয়নমূলক কাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও চরম ভীতি কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখন কেবল রুটিন মাফিক কাজ করলে চলবে না; বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে। টার্গেট কিলিংয়ের এই নীরব ও ভয়াবহ ছক ভেঙে দিতে না পারলে আগামী দিনগুলোতে ঢাকার রাজপথ আরও রক্তস্নাত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।


এ জাতীয় আরো খবর...