শিরোনামঃ
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পায়ের নিচে পৃথিবী বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ধারাবাহিক লোকসান: ঋণ ৬০ হাজার কোটি, সংকটে পাওয়ার গ্রিড সুপার এল নিনোর ছায়া ও জলবায়ুর খামখেয়ালিপনা: চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: ক্লাস চলাকালে বহু শিক্ষার্থী অপহরণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ইরানের তীব্র ক্ষোভ, বিশ্ববাসীকে ‘কঠোর বার্তা’ তেহরানের ট্রাম্প ফিরতেই বেইজিং যাচ্ছেন পুতিন: দুই পরাশক্তির বৈঠকে নজর বিশ্ব মহলের নগরের দায়িত্ব পেলে নাগরিক সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবো: সাদিক কায়েম আস্থার চরম সংকটে দেশের আর্থিক খাত: ৬৬% ব্যাংকই দুর্বল, আসল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা পাকিস্তানের, পাঁচ নতুনের অভিষেক
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

দেশের স্বার্থ নষ্ট হয় এমন চুক্তি নয়, ফারাক্কা না হলে পদ্মা ব্যারেজ: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

ভারতের সাথে যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য আর ফারাক্কা চুক্তি করা হবে না; বরং পরবর্তী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকতে হবে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এর সিদ্ধান্ত

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের নদী ও ভূ-রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফারাক্কা চুক্তি করা যাবে না। পরবর্তী কোনো চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকতে হবে। যদি তা না হয়, সেই ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, অন্য কোনো দেশ বা আঞ্চলিক শক্তির রক্তচক্ষু ও ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই বাংলাদেশ সরকার দেশের কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের পানির অধিকার রক্ষায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

দিল্লি সম্পর্কের শর্ত ফারাক্কা

ভারতের সাথে ঢাকার বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ মূলত তিস্তা ও ফারাক্কার মতো সংবেদনশীল পানিবণ্টন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর। দেশের স্বার্থ নষ্ট করবে, এমন কোনো চুক্তি এই বিএনপি সরকার করবে না।”

এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, উন্নয়ন বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব বা প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো আপস করবে না নতুন সরকার।

দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক

উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি দেশের পানিসম্পদ ও নদী সুরক্ষার এই জাতীয় সংকটকে কোনো দলীয় ফ্রেমের মধ্যে না রেখে জাতীয় ইস্যু হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফারাক্কা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের লড়াইয়ে দল-ধর্ম-মত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে এক জায়গায় এসে রাজপথে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবসে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের এই বিকল্প ও সাহসী ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং কূটনৈতিক মহলে একটি নতুন ও শক্তিশালী সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


এ জাতীয় আরো খবর...