শিরোনামঃ
হজ পালনে সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৭৭ হাজার বাংলাদেশি হেঁটে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু: দুই মাসে প্রাণহানি ছুঁল প্রায় ৫০০ রামিসার কবর জিয়ারতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সংসদ সদস্য সুস্থ কোরবানির পশু চেনা এবং মাংস সংরক্ষণের খুঁটিনাটি চিরকূট এবং গুঞ্জন সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, জিম্মি নাটক শেষে ঘাতক আটক চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্মম দায়ের কোপে বাবা খুন, হাত বিচ্ছিন্ন বটবাহিনীর দৌরাত্ম্য: কৃত্রিম জনমতের ফাঁদে দেশ ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী যুবক নিয়ে তোলপাড়
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

শিশু রামিসার ঘাতক রানার অন্ধকার অতীত: দ্রুত চার্জশিটের আশ্বাস ডিবিপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে আসছে এই ঘাতকের অন্ধকার, বিকৃত ও অপরাধে ভরা অতীতের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা আগেও নানা জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সামাজিকভাবেও তার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত কলঙ্কিত।

দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার আশ্বাস

শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আসামির অতীত আমলনামা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকাজ অত্যন্ত নিখুঁত ও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আদালতে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। ডিবিপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্বভাবচরিত্র আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং সে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত ছিল।

গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই অমানবিক ঘটনার পর দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে নিজের দোষ স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করে।

পরিবারের ক্ষোভ ও প্রত্যাখ্যান

সোহেল রানার আদি বাড়ি নাটোর জেলার মহেশচন্দ্রপুরে। সেখানেও সে দীর্ঘকাল ধরে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার এই জঘন্য অপরাধের কথা শুনে খোদ তার পরিবারও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সোহেলের আপন ছোট বোন জলি বেগম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চার বছর আগেই সোহেল তার বৃদ্ধ মা-বাবা এবং নিজ পরিবারকে সম্পূর্ণ পথে বসিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা তার মতো অপরাধীর কোনো পরিচয় দিতে চাই না এবং ভবিষ্যতেও তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখার সামান্যতম আগ্রহ নেই। সে যে জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ করেছে, আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ সোহেলের মা-ও একই ধরনের আক্ষেপ করে জানান, গত চার বছর ধরে সোহেল তার পরিবার বা নিজের সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি এবং একটি পয়সা দিয়েও আর্থিক সহযোগিতা করেনি।

চুরি, পরকীয়া ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেল এলাকায় একজন কুখ্যাত ও পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকারি নির্মাণকাজের রড এবং স্থানীয় বিভিন্ন অটো-মিলের রড চুরির অপরাধে সে একাধিকবার হাতেনাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় থাকার সুবাদে সে বারবার আইনের হাত থেকে ফসকে যেত।

তার পারিবারিক জীবনও ছিল চরম কলঙ্কিত। ১০ বছর আগে সে প্রথম বিয়ে করে, যে সংসারে তার একটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু নিজের আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারণে তার সেই প্রথম সংসার ভেঙে যায়। তিন বছর আগে সে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তার বিকৃত স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো সে অনলাইন জুয়া এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশায় মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিপুল পরিমাণ টাকার ঋণে জর্জরিত হয়ে পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

ঢাকায় আগমন ও মর্মান্তিক পরিণতি

এলাকা থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবী এলাকায় রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করে সোহেল। কিন্তু সেখানেও তার মাদকাসক্তি এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন অব্যাহত ছিল। পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকার সময় নিয়মিত ইয়াবা সেবনের বিষয়টি জানাজানি হলে, তাকে সেই বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচিতদের মাধ্যমে পল্লবীর একটি গ্যারেজে কাজ নিলেও, নেশার কারণে কাজে চরম অনিয়মিত থাকায় সেখান থেকেও তাকে ছাঁটাই করা হয়। সবশেষ, পল্লবীতেই জনৈক মাসুদের বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠে সে। আর ওই বাসায় ওঠার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সে পাশবিক রূপ ধারণ করে এবং অবুঝ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।


এ জাতীয় আরো খবর...