আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বোন শেখ রেহানার মধ্যকার ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ আজ সোমবার (১৮ মে) আদালতে বাজিয়ে শোনানো হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটির নবম সাক্ষী হিসেবে সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জবানবন্দি দেন। এরপরই আদালতে এই অডিও রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়।
সালমান এফ রহমান: হ্যালো।
কর্নেল রাজিব: স্লামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজিব বলছি স্যার। রেহানা আপা একটু কথা বলতো ওভার টু ওভার স্যার।
সালমান এফ রহমান: কে?
কর্নেল রাজিব: রেহানা আপা, রেহানা আপা। জি স্যার।
শেখ রেহানা: স্লামালাইকুম ভাইয়া।
সালমান এফ রহমান: হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমুসসালাম।
শেখ রেহানা: জি আপনি কই?
সালমান এফ রহমান: আমি আমার বাসায়।
শেখ রেহানা: থাইকেন না।
সালমান এফ রহমান: থাকব না, হ্যাঁ ঠিকাছে।
শেখ রেহানা: আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো… কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে।
সালমান এফ রহমান: আচ্ছা, তো তোমরা অন্য জায়গায় চলে গেছো? আপাও গেছে?
শেখ রেহানা: জি ভাই। তো আপনি…
সালমান এফ রহমান: আমরা যদি বাইর হইতে পারি, আমরা বের হয়ে যাব। আনিসুল হককে বের করে ফেলি সাথে?
শেখ রেহানা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান আর জয় যেটা করছে আপনি ওইটা করেন।
সালমান এফ রহমান: ঠিকাছে, ঠিকাছে। ওকে।
শেখ রেহানা: এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ শুড বি। আর আমি কনভিন্স করতেছি যে, মানে যা আছে ঐটা করব আরকি। এখানে একদম থাকা সেইফ না।
সালমান এফ রহমান: আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?
শেখ রেহানা: ঐগুলো এখন বাদ দেন, ইউ শুড লিভ ইমিডিয়েটলি (আপনাকে এখনই চলে যেতে হবে)।
সালমান এফ রহমান: ওকে।
শেখ রেহানা: জি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।
সালমান এফ রহমান: ফি আমানিল্লাহ।
শেখ রেহানা: স্লামালাইকুম।
সালমান এফ রহমান: ওয়ালাইকুমুসসালাম।
আদালত কক্ষে নিজের এই কথোপকথনটি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। এর ঠিক আগেই কাঠগড়ায় বসে তাকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে নিচু স্বরে কথা বলতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ আদালতে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ ও মামুনুর রশিদ। অন্যদিকে সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী জেরার জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত আগামী ৮ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।