রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিসা বা হুক্কা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ডিএমপি কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী ও প্রেক্ষাপট
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু হাইকোর্টে এই আবেদনটি দাখিল করেন।
এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। ওই রুলে আবেদনকারীর ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারির আবেদনটি ৬০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে ডিএমপি কমিশনারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত অবমাননার মূল অভিযোগগুলো:
নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা: হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া ৬০ দিন সময়সীমা পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এমনকি আদালতে কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়নি।
অবাধ কার্যক্রম ও মাদক শঙ্কা: উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাউঞ্জে তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি মাদকসদৃশ উপাদানও সেবন করা হচ্ছে, যা তরুণ ও শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করছে।
সাংবিধানিক লঙ্ঘন: আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
আইনজীবীর বক্তব্য
রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, “মাননীয় হাইকোর্ট দেশের জনস্বাস্থ্য, তরুণ সমাজ এবং আইনের শাসনের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যদি চলতেই থাকে, তবে তা আদালতের আদেশের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা হিসেবেই বিবেচিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে প্রকাশ্যে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হওয়া এবং প্রশাসনের নিশ্চুপ থাকা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।”