গত ৭ মে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক চিত্র দেখা গেছে। এই নির্বাচনে ইসলামপন্থি এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখা ৫৭৪ জন প্রার্থী কাউন্সিলর হিসেবে বিজয় অর্জন করেছেন। এর মধ্যে শুধু ইংল্যান্ডেই স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থীরা ১০০টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করে চমক দেখিয়েছেন।
হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির (এইচজেএস) বিশ্লেষণ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির (এইচজেএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৬৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এইচজেএস-এর বিশ্লেষণ বলছে, ইংল্যান্ডের স্থানীয় পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতি ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনেরও বেশি এমন প্রার্থী রয়েছেন, যারা মুসলিমদের অধিকার ও ইস্যু নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ৫৭৪ জন প্রার্থীর সবাই ধর্মগতভাবে মুসলিম ছিলেন না। তবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো ছিল সুস্পষ্টভাবে ইসলাম এবং মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
বিজয়ী প্রার্থীদের দলীয় পরিসংখ্যান
মুসলিম ও ফিলিস্তিনপন্থি এজেন্ডা নিয়ে বিজয়ী এই ৫৭৪ জন প্রার্থীর দলীয় বিভাজন নিচে তুলে ধরা হলো:
গ্রিন পার্টি: ৩৫০ জন
স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১৩২ জন
লেবার পার্টি: ৮৪ জন
লিবারেল ডেমোক্র্যাট: ৬ জন
আলোচনায় থাকা কয়েকজন বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে বিজয়ী বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের মন্তব্য ও অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছেন:
মোহাম্মদ সুলেমান: তিনি নিউক্যাসল থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সাইকা আলী: ল্যাম্বেথ থেকে নির্বাচিত গ্রিন পার্টির এই প্রার্থী অতীতে অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
শামস সৈয়দ: ম্যানচেস্টার থেকে নির্বাচিত গ্রিন পার্টির এই প্রার্থী নির্বাচনের আগে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ‘গাজা ইস্যু’ ছাড়া রাজনীতিতে তার অন্য কোনো আগ্রহ নেই।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চিত্র
সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক বিজয়ের পেছনে যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যার একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এর সত্যতা মেলে:
বর্তমান চিত্র: সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম, যার সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ অংশটি বসবাস করে ইংল্যান্ডে। এর তুলনায় স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে এই হার প্রায় ২ শতাংশ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে মাত্র ০.৬ শতাংশ (২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)।
বৃদ্ধির হার: দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এক দশক পর ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশে এবং বর্তমানে তা সাড়ে ছয় শতাংশে এসে পৌঁছেছে।