দিন দিন অনলাইনে প্রতারণা বাড়ছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে গেছে একধরনের পুকুর। সেখানে আমরা হচ্ছি মাছ। প্রতারকরা অনবরত বরশি ফেলছে—অনেকেই না বুঝে সেই টোপ গিলছি। তারপর জীবন হচ্ছে ছারখার।
সাত ধরনের অনলাইন প্রতারণা নিয়ে আপনাদের সাবধান করার জন্যই এই লেখা।
১) হানি ট্র্যাপ
এই ফাঁদে পুরুষরা বেশি পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত নারী তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাধারণত তাঁদের প্রোফাইল পিকচার খুব সুন্দর থাকে। বাস্তবেও হয়তো অনেকেই সুন্দরী। মেল হরমোনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রূপবতী নারীদের প্রতি আকর্ষিত হওয়া। তাই অনেক পুরুষ এদের ফাঁদে পা দেন।
মেয়েরাও এ ফাঁদে পড়তে পারেন। একসময় পূর্ব জার্মান ইন্টেলিজেন্স পশ্চিম জার্মানির নারী কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলার জন্য সুদর্শন পুরুষ ব্যবহার করত।
সমাধান হলো—তীক্ষ্ণ সাবধানতা এবং আত্মসংযম।
২) অচেনা লিংক
কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক তাঁর টেলিগ্রামে একটি ওয়েবসাইটের লিংক পেলেন। মেসেজে লেখা—‘উপরের ওয়েবসাইটে আপনার একটি ছবি আছে।’
ভদ্রলোক কৌতূহলী হয়ে ওয়েবসাইটের লিংক খুললেন। সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকাররা তাঁর টেলিগ্রাম আইডির দখল নিয়ে নিল।
৩) অনলাইনে কেনাকাটা
অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় শুধুমাত্র ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কিনুন। পণ্য পাওয়ার পর তা দেখে মূল্য পরিশোধ করুন। এমন সময় ডেলিভারি দিতে বলুন, যখন বাসায় লোকজন থাকে।
তবে ডেলিভারির জন্য দ্বিতীয় একটি ঠিকানা ব্যবহার করতে পারলে ভালো। যেমন-/অফিস। এটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য)।
৪) ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিষণ্ণতা নিয়ে লিখবেন না। অনেকেই এ ধরনের পোস্টের জন্য ওৎ পেতে বসে থাকে। এ ধরনের পোস্টের সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয়। সহানুভূতি দেখিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়।
তারপর সুযোগ বুঝে কিছু ভুল করতে প্ররোচিত করা হয়। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল।
মনে রাখবেন—দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ টার্গেট হলো বিষণ্ণ মানুষ।
৫) দেখাসাক্ষাৎ
অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হওয়া বন্ধু আমন্ত্রণ জানাতে পারে। কোনো দরকারেও তার সঙ্গে দেখা করতে হতে পারে।
এক্ষেত্রে কোনো প্রাইভেট জায়গায় দেখা করা উচিত নয়। পাবলিক প্লেস—যেমন রেস্টুরেন্ট, পার্ক—এসব জায়গায় দেখা করুন। একা যাবেন না। সঙ্গে কাউকে নিন।
মেয়েদের এ ধরনের দেখাসাক্ষাৎ না করাই ভালো। নিতান্ত প্রয়োজন হলে পুরুষ সঙ্গী সঙ্গে নিন।
৬) ইনবক্স
কেউ মেসেজ পাঠালে তা যদি অস্বস্তিকর হয়—বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যদি সাবধান করে—তবে সে ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিন।
সাধারণত অনলাইন প্রতারণা শুরু হয় ইনবক্স থেকে।
৭) অপরিচিতের বন্ধুত্বের প্রস্তাব
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপদে পড়ার অন্যতম কারণ এটি। যার-তার বন্ধুত্ব গ্রহণ মানে আপনার ব্যক্তিজীবনে অপরিচিত আগন্তুককে প্রবেশ করতে দেওয়া।
আপনার বাসায় কি আপনি তা করতে দেবেন? তাহলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া আইডিতে কেন দেবেন?
পৃথিবীটা এমনিতেই কঠিন জায়গা। বাঁকে বাঁকে ঝামেলা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অনলাইন প্রতারণা।
এর থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হলো আত্মসম্মানবোধ।
মনে রাখতে হবে, যে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না—তাকে আর কেউ রক্ষা করতে পারে না।
এ জাতীয় আরো খবর...