গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৩টায় গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই দাবি করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
সিসিটিভি ফুটেজে আত্মহত্যার দৃশ্য
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পদ্মা সেতুতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, গত ১১ মে (সোমবার) ভোরবেলা একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে সাদা শার্ট পরিহিত ফোরকান সেতুতে নেমে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কালো রঙের একটি ব্যাগ রেখে তিনি পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।
ব্যাগ ও মোবাইল উদ্ধার
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন আরও জানান, পদ্মা সেতুতে ফোরকানের ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি ওই পথ দিয়ে যাওয়া একটি মালবাহী ট্রাকের হেল্পার দেখতে পান এবং সেগুলো নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন। পরবর্তীতে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করে। ফোরকানের মৃতদেহের সন্ধানে এরই মধ্যে পদ্মা নদীকেন্দ্রিক সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
চাঞ্চল্যকর সেই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত শনিবার (৯ মে) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোণ এলাকায় প্রবাসী মুজিবুর মিয়ার ভাড়া বাসার নিচতলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ফোরকান তার স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের পাশে পড়ে থাকা কিছু অভিযোগের কাগজ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ও নৃশংস বর্ণনা উঠে আসে।