বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিনই এক আকস্মিক ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবনির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। তবে নির্বাচিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আজ সোমবার তিনি বিসিবি সভাপতি বরাবর তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে মূলত তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির পুত্র।
বিসিবি সভাপতিকে দেওয়া চিঠিতে সীমান্ত উল্লেখ করেন, ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। তবে তাঁর পিতা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্ত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দায়িত্ব এখন তাঁর নিজের কাঁধের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। এই বিশাল ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝে বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের পদটি সামলানো এবং বোর্ডের কাজে যথাযথ সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
তিনি আরও জানান, ক্রিকেট বোর্ডের কাজের ক্ষতি হোক—এমনটা তিনি চান না। তাই গভীর দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং দেশের ক্রিকেট অঙ্গন ও বিসিবির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি দ্রুত গ্রহণ করার জন্য তিনি বিসিবি সভাপতির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চল থেকে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় মীর শাকরুল আলম সীমান্ত অনায়াসেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে বিসিবির ভেতরের গুঞ্জন অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই তিনি এই গুরুদায়িত্ব পালন না করার বিষয়ে নিজের অনীহার কথা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন। অবশেষে ব্যালট যুদ্ধের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় তিনি লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বোর্ডের অধ্যায় চুকিয়ে ফেললেন।