শিরোনামঃ
যারা শাশুড়ি হতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য ১০টি পরামর্শ চিকিৎসার পর ফের কারাগারে দীপু মনি সংসদে ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয় বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রাহকদের জন্যে স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ কর সংস্কারের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর বন্ধ হচ্ছে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

বন্ধ হচ্ছে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
gas

দেশে বিদ্যমান আবাসিকের সকল গ্যাস সংযোগ আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে দেশের মোট গ্যাসের ১২ শতাংশ ব্যবহৃত হয় আবাসিক খাতে, যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকার মনে করছে, এই গ্যাস আবাসিক খাতে ব্যবহার না করে যদি শিল্পখাতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়, তবে জাতীয় উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। জ্বালানি সচিবের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গৃহস্থালির গ্যাস ব্যবহারকারীদের এলপিজি (LPG) ব্যবহারের অভ্যস্ত করে তোলা হবে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, পৃথিবীর অনেক দেশেই পাইপলাইনের গ্যাসের চেয়ে এলপিজিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশও সেই পথেই হাঁটতে চায়।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার গৃহস্থালির গ্যাস উন্নয়ন সংক্রান্ত চলমান প্রকল্পগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গৃহস্থালি গ্যাস উন্নয়নের জন্য যেসব ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলোও বাতিল বা পুনর্বিন্যাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ইচ্ছা, এই ঋণের টাকা ব্যবহার করে এলপিজির অবকাঠামো নির্মাণ করা, যাতে সাধারণ গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির প্রতি বোতলে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে। তবে এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর বা পুনর্বিন্যাস করা বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গত ২০ এপ্রিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের কার্যপত্রে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনার সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, সেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিবর্তে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা সহজীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ৫০ বছরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব পাইপলাইন প্রতিস্থাপন না করে কেবল অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বিকল্পহীন এলাকাগুলোতেই সংস্কার কাজ চালানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞ মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোর বহুতল ভবনে এলপিজি ব্যবহার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং এলপিজি পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থাও বেশ জটিল। বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষ করে ভারত, পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনা করে বর্তমানে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ তার উল্টো পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

এছাড়া রাজস্বের বিষয়টিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকরা চুলার সংখ্যার ভিত্তিতে বিল প্রদান করেন। একজন গ্রাহক দিনে হয়তো রান্নার প্রয়োজনে দুই-তিন ঘণ্টা গ্যাস ব্যবহার করেন, কিন্তু তাকে ১২ ঘণ্টার বিল দিতে হয়, যা সরকারের জন্য উচ্চ রাজস্ব আয়ের উৎস। এছাড়া নতুন সংযোগ বন্ধ থাকলেও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের যে প্রবণতা রয়েছে, তা বৈধ সংযোগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার আবাসিকে নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয়, কিন্তু পুরনো সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা এই প্রথম নেওয়া হলো।

সরকার বরাবরই জ্বালানি সংকটের কথা বলে আসছে। এই সংকট মোকাবিলায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শিল্পখাতে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যটি অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক মনে হলেও, এর বাস্তবায়ন কতটা জনবান্ধব হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এলপিজির অবকাঠামো নির্মাণ, সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই হবে সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, আগামী পাঁচ বছরের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় শেষ পর্যন্ত কী প্রভাব ফেলে।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...