শিরোনামঃ
পর্তুগাল–স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম দ্বৈরথ: কার জয়রথ চলবে কোয়ার্টার ফাইনালে মেয়ের বিয়ে: আমিন চাচার আট পরামর্শ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ বিদেশি আটক প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্ততি ইসির ফিলিস্তিনকে সমর্থন করায় খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: হুথি মুখপাত্র গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা হামাসের
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

আজ রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), সকাল ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’

তিনি বলেন, এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের মানবিক ও কঠিন দায়িত্ব পালনের কারণে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।’

তিনি বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তাঁর শাসনামলে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিবাযত্ন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই। নিরাপদ পরিবেশে শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারাই দেশ গঠনের প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্র শুধু কর্মজীবী মায়ের জন্য নয়, বরং প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তিনি বলেন, একদিনে ১০০টি দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল এবং মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই এ কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

ডা. জাহিদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে মাত্র ছয়টি দিবাযত্ন কেন্দ্র দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। বর্তমানে সেই উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্বের কারণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যিনি ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে যে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ববোধই মুখ্য।’


এ জাতীয় আরো খবর...