টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোর কোথাও কোথাও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও তলিয়ে গেছে চরের ফসল। ফলে ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে নদীর পানি বিদৎসীমার ৮ দশমিক ৫৯ মিটার নিচে অবস্থান করছে। নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩০ মিটার।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবাহিত হতে শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় চর তলিয়ে গেছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন মৌসুমি ফসল আগাম তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা। তবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু এলাকার ফসল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল কুমিল্লা জেলা। ওই বছরের ২১ আগস্ট ভোরে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণের ফলে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় বদীর বাঁধ ভেঙে পড়েছিল। ফলে শতশত গ্রাম প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করেছিল। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ রাস্তাঘাট, কৃষি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। সে বছর প্রাণ গিয়েছিল ১৪ জনের। সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষেরা।
গেল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িচং উপজেলার ইছাপুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, ২০২৪ সালে বন্যা আমাদের জন্য এক ভয়ঙ্কর অধ্যায় ছিল। চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আমাদের। বহু কষ্টে মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। আবার বন্যা হলে এবার আর উপায় থাকবে না।
সদর উপজেলার ডুমুরিয়া চাঁনপুর এলাকার বাসিন্দা আনাস রহমান বলেন, চরের মাটি লুটের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এবার আবার বন্যা হলে আমাদের উপায় থাকবে না। চরে বেশ কিছু সবজি চারা রোপণ করেছি। সেগুলো পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে নিচ্ছি। যা-ই বিক্রি করতে পারি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গোমতীর পানি গতকাল বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৯৩ মিটার উঠে গেলেও পরক্ষণে তা কমে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ৮ দশমিক ৯৩ মিটার রেকর্ড করা হয়। এদিন রাত ১২টায় নদীর পানি নেমে আসে ৮ দশমিক ৮৬ মিটারে। আজ (শুক্রবার) সকালে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৫৯ মিটারে নেমে আসে। আজ বিকেল ৩টার দিকে হয়তো আরও কমতে পারে। শুক্রবার সকাল থেকে তেমন বৃষ্টি লক্ষ্য করা যায়নি কুমিল্লা অঞ্চলে।
তবে গোমতীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ভয়ের কিছু নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো ভয়ের কিছু নেই।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকালের (বৃহস্পতিবার) চেয়ে আজকে গোমতীর পানি একটু কম। বন্যার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবুও আমাদের ব্যাপক পূর্ব প্রস্তুতি আছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত আছে।