বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে রাজপথে নামছে বিরোধী জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের সামগ্রিক সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক জোট তাদের অনড় অবস্থানে অটল রয়েছে। এই অনড় অবস্থানের অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে তারা সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এই কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় সংসদে যদি তাঁদের যৌক্তিক দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে এভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে সংসদের ভেতরের প্রতিবাদের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনকে আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের উচিত ছিল একটি সুনির্দিষ্ট সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা। তেমনটি করা হলে বিরোধী দল অবশ্যই সেখানে অংশ নিত। কিন্তু সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের জন্য গঠিত এই বিশেষ কমিটিতে নাম দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে তাঁদের ঘোষিত সাংগঠনিক কর্মসূচি ও সমাবেশগুলো চলমান রয়েছে এবং এগুলো শেষ হওয়া মাত্রই তারা সরকারের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে অবতীর্ণ হবেন।

গত সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ বিরোধী সদস্যরা সংসদ অধিবেশন থেকে একযোগে ওয়াকআউট করেন। সংসদ ভবনের বাইরে এসে আমিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম এসেছিল এবং সেদিনই বিরোধী দল তাদের কঠোর ও নেতিবাচক অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিল। বিরোধী দলের এই তীব্র আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী এই বিশেষ কমিটিতে মোট ১৭ জন সদস্য থাকার কথা ছিল, যার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ৫টি আসনে নাম দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দল সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় সরকার।

বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারাও এই বিষয়ে তাঁদের কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা সংবিধানে কোনো জোড়াতালির সংশোধন চান না, বরং সামগ্রিক রূপান্তর বা সংস্কার চান। এই নীতিগত দাবিতেই তাঁরা শেষ পর্যন্ত অটল থাকবেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড। আতিকুর রহমান মোজাহিদ জানান, এনসিপি কোনোভাবেই এই ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না। দেশের সাধারণ জনগণ গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, দল হিসেবে এনসিপি জনগণের সেই ম্যান্ডেট ও রায়ের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নে অনড় থাকবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার গায়ের জোরে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার রাজনৈতিক দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। সংসদে যদি বিরোধী মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে সংসদের বাইরে অর্থ্যাৎ রাজপথে আন্দোলন আরও তীব্র ও বেগবান করা হবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ে তাঁরা মাঠের লড়াইয়ে থাকবেন।

এনসিপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সারা দেশে তাদের মাসব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জোটের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর ও চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের মানুষের দেওয়া গণভোটের রায়কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সরকার দুই-তৃতীয়াংশের জোরে একতরফাভাবে ভিন্ন পথে এগোচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বয়ং সরকারি দলের জন্যই রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সরকারকে পুনরায় আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে একটি বৈধ ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হোক, অন্যথায় বিরোধী দল রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের এই দাবি আদায় করে ছাড়বে এবং দিন দিন এই আন্দোলনের গতি ও তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে, উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিরোধী দলের উদ্দেশে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, দেশে একটি সুসংহত ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে—তা ঠেকাতে বর্তমান সরকার সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এই মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তিনি বিরোধী জোটের নেতাদের রাজনৈতিক জেদ পরিহার করে পুনরায় আলোচনা ও সংসদীয় কমিটিতে ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদে এই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম আসে গত ২৯ এপ্রিল। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঐতিহাসিক জুলাই সনদের আলোকে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে বিরোধী দল থেকেও সমান গুরুত্বের সাথে সদস্য রাখা হবে। কিন্তু বিরোধী দল শুরু থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে বলে আসছে যে, যেহেতু দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে, তাই সেই ফলাফলের ভিত্তিতে সরাসরি একটি স্বতন্ত্র ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে এবং এর বাইরে আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির কোনো আইনি বা নৈতিক প্রয়োজনীয়তা নেই।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ সংলাপের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর দেশের প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ২৫টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) এই সনদে তাদের সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর দান করে। এই জুলাই সনদের মোট ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারাই সরাসরি দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত ছিল।

এই সনদটি আইনিভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তীতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। এই বিশেষ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী, গত জাতীয় নির্বাচনের দিন দেশব্যাপী একই সাথে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়। অধ্যাদেশের মূল শর্তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে, তবে দেশের নবনির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবে এবং সনদের সংস্কারসমূহ সংবিধানে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করবে।

বিরোধী দলগুলোর মূল ক্ষোভ ও অভিযোগের জায়গাটি এখানেই। তারা বলছে, গণভোটের সেই আইনি রায় অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—এই দুই পরিচয়ে ও দ্বৈত দায়িত্বে শপথ গ্রহণ করলেও, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা রহস্যজনকভাবে দ্বিতীয় শপথটি গ্রহণ করেননি। ফলে গণভোটের সেই ঐতিহাসিক রায় ও ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করার পরিবর্তে সরকার এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে হেঁটে সংবিধান সংশোধনের জন্য এই পৃথক বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই রাজনৈতিক চাতুরতার কারণেই বিরোধী জোট এই কমিটিতে অংশ না নিয়ে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই সমানতালে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ এ বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকার যদি নিজেরাই বিরোধী দলকে রাজপথে নামার ও আন্দোলন করার মতো একটি সংবেদনশীল ইস্যু এনে দেয়, তবে মাঠপর্যায়ে আন্দোলনের উপাদান ও জনসমর্থন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাদের এই আন্দোলনটি হয়তো একটু সময় নিয়ে দানা বাঁধত, কিন্তু সরকারের এই একতরফা পদক্ষেপের কারণে তা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে এবং এই মৌলিক ইস্যুতে কোনো ধরণের রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না। তবে জামায়াত ও বিরোধী জোটের কিছু সিনিয়র নেতার মতে, আন্দোলন চলমান থাকলেও কৌশলগত কারণে আপাতত তারা কিছুটা নমনীয় বা পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন এবং চূড়ান্ত রূপ ধারণ করার আগে সরকারকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে চান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর এক শীর্ষ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলনটি ভেতরে ভেতরে চলমান রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত ও কঠোর রূপটি মূলত রাজপথে দেখা যেতে পারে আগামী দিনে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ গঠন করার মূল প্রশ্নটি সামনে আসার পর। তবে জোটের শরিক দল এনসিপির একাংশের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াত বরাবরই সরকারের প্রতি একধরণের নমনীয় ভাব দেখাচ্ছে, যেখানে এনসিপি শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে রাজপথে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। তবে তাঁদের বিশ্বাস, যখনই আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মূল সাংবিধানিক সংকটটি সামনে এসে দাঁড়াবে, তখন জামায়াতও তাদের এই বর্তমানের নমনীয় ভাব পুরোপুরি পরিহার করে মাঠপর্যায়ে একটি কঠোর ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বড় দল হিসেবে বিএনপি তাদের পূর্বের রাজনৈতিক অভ্যাসের মতোই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ও নিজেদের সুবিধা রক্ষা করে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে চাইবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারের পরামর্শে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন এবং সেই বিতর্কিত প্রক্রিয়াই হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্ধারণের ভিত্তি। বিরোধী দল এবার কোনোভাবেই এই পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে নেবে না এবং সংস্কারের সেই চূড়ান্ত রাজনৈতিক শক্তির মহড়া ও লড়াইটি খুব শীঘ্রই রাজপথের আন্দোলনে দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...