বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্টে রেকর্ড বৃদ্ধি, এক বছরে বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

দেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করে রিপোর্ট করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর কাছে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেশি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে রিপোর্টের সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আর্থিক খাতে নজরদারি ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‎বিএফআইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জমা পড়া ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্টের মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন ছিল ২০ হাজার ৫২৪টি এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন ছিল ৯ হাজার ৬৭৫টি।

‎এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএফআইইউ’র কাছে জমা পড়েছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি। ফলে পাঁচ বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্টিংয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।

‎আইন অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ২৫(১)(ঘ) ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৬(১) ধারা অনুসারে সব রিপোর্টিং সংস্থা (আরও) কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা অস্বাভাবিক আর্থিক কার্যক্রম শনাক্ত করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিএফআইইউ’র কাছে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ প্রতিবেদন (এসএআর) জমা দিতে বাধ্য।

‎বিএফআইইউ’র তথ্য বলছে, রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, রিপোর্টিং সংস্থাগুলোর কমপ্লায়েন্স জোরদার, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হওয়া এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি।

‎এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া ও বেটিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো নতুন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক কার্যক্রম বাড়ায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্ট করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।

‎প্রতিবেদনের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছর ধরে মোট এসটিআর ও এসএআরের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

‎বিশ্লেষকদের মতে, রিপোর্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার অর্থ শুধু আর্থিক অপরাধ বেড়েছে—এমন নয়। বরং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করে বিএফআইইউকে জানাচ্ছে। এতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও শক্তিশালী হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...