শিরোনামঃ
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২ লাখ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সাথে ব্যাংক খাতের সার্বিক সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র এবং ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের হিসাব জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যানসমূহ উপস্থাপন করেন।

সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো হিসাবে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিদ্যমান খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার কমিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে ‘ব্যাংক রেজুলিউশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি চেক জালিয়াতি ও চেক ডিসঅনার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সহজ করতে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও কর আদায়ের বিষয়ে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই করপোরেট করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। অন্যদিকে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাময়িকভাবে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এছাড়া কাস্টমস-সংক্রান্ত কর ফাঁকির দায়ে ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

দেশে চলমান মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৮।১৭ শতাংশে নেমেছিল। তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯।৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে বহাল রেখে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে বাজারে সরবরাহ সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হবে।

সংসদে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: মাহবুবুর রহমানের (বেলাল) এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী ‘মুজিববর্ষ’ পালনের ব্যয়ের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি দফতরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকারের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় এই অর্থ ব্যয় করেছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও আগের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরের খাওয়া-দাওয়ার পেছনেই প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকার বর্তমানে এই খাতসহ আরও বিভিন্ন খাতের ব্যয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।

সংসদকে অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঋণ জালিয়াতি রোধে সরকার একটি সুসংগঠিত রেজুলিউশন কাঠামো বাস্তবায়ন করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুরুতর অনিয়মে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যার ফলে সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং ফিন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। একীভূত হওয়া ওই পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতি তদন্তে বর্তমানে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী হুশিয়ারি দেন।

তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত


এ জাতীয় আরো খবর...