শিরোনামঃ
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

কয়েকশ সাধারণ গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে উড়োজাহাজের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক জনপ্রিয় ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালকসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— এফইবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

সিআইডির পাঠানো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক উড়োজাহাজ টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা প্রদান করতে থাকে। ২০১৯ সালে ‘এফইবিডি’ নামে যৌথ মূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ করলেও প্রতিষ্ঠানটি মূলত ফ্লাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি উভয় নামেই তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং যাবতীয় ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল।

তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) এবং বি-টু-সি (বিজনেস-টু-কনজিউমার) উভয় পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের লোভনীয় ঘোষণা দিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির মূল হোতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম গত বছরের ১ আগস্ট গোপনে দেশ ত্যাগ করেন।

সিআইডির ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এফইবিডির নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত সাধারণ মানুষের অর্থ পরবর্তীতে কৌশলে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির এই অপরাধলব্ধ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, নগদ উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে সম্পদের মূল উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স মিলে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব রহস্যজনক লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার অর্থ সম্পূর্ণ আত্মসাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ (IATA) অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ মূল্য অগ্রিম গ্রহণের পরও কোনো টিকিট সরবরাহ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সিআইডি শনাক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত এই ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা


এ জাতীয় আরো খবর...