বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

আইএমএফ ঋণ আলোচনা: বিদ্যুৎ মূল্য আর বাড়ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঢাকা সফরের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম নতুন করে বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ সরকারের জন্য আইএমএফের প্রস্তাবিত নতুন ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণের অংশ হিসেবে এই তথ্য উঠে আসে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইএমএফ মিশনের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল মূলত সরকারি ভর্তুকি কমানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি মূল্যে কোনো নতুন সমন্বয় বা মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চায়। জবাবে সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানান যে, বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক ভর্তুকি হ্রাস করা বা মূল্যবৃদ্ধি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং এ বিষয়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে।

বৈঠকে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আইএমএফ-কে জানানো হয় যে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে গত মাস থেকেই বিদ্যুতের দাম ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে আবার মূল্যবৃদ্ধি করা হলে তা দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা গত তিন বছর ধরে এমনিতেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির খরচ এবং এই খাতগুলোতে সরকারের মোট ভর্তুকির পরিমাণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকার জানায় যে, বিদ্যুৎ খাতে এবারের ভর্তুকির বরাদ্দ গত ২০২৫–২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দের মতোই রাখা হয়েছে।

বিকেলে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও আইএমএফ প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়。 বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী জানান, ভর্তুকি, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারগুলো সরকার ধাপে ধাপে এবং যৌক্তিক উপায়ে বাস্তবায়ন করবে। কোনো হঠকারী বা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি এবং এবারের আলোচনা মূলত ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচির নীতিগত কাঠামো তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।

বিগত ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে。 বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী ২০২৩ সালের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচিটি আর না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যার ১.৯ বিলিয়ন ডলার এখনো ছাড় হওয়া বাকি ছিল। এর পরিবর্তে নতুন সরকারের ৪ মাসের অর্থনৈতিক সংস্কার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে আইএমএফ নতুন ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বার্ষিক সভার পাশাপাশি এই ঋণের পরবর্তী ধাপের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: নিউএজ


এ জাতীয় আরো খবর...