বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

পাসপোর্টে ফিরল ইসরায়েল ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সাঈদ মুগ্ধর জলছাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশি পাসপোর্টের আইনি পরিচয় ও অভ্যন্তরীণ নকশায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর পাসপোর্টে পুনরায় বহাল করা হয়েছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ বা ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শীর্ষক বিশেষ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শর্তটি। একই সাথে নতুন ই-পাসপোর্টের জলছাপে বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং ওয়াসিম আকরামের প্রতিকৃতি সংযোজনের ঐতিহাসিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন এই আদেশের মাধ্যমে পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠার ভেতরের শৈল্পিক জলছাপ এবং প্রচ্ছদের নকশা সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানোর বিস্তারিত রূপরেখা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে যে, পাসপোর্টের ৩০ ও ৩১ নম্বর পৃষ্ঠাকে বিশেষভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনার প্রতি উৎসর্গ করা হবে, যেখানে শহীদদের ছবির জলছাপ ফুটিয়ে তোলা হবে। এর আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হঠাৎ করেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নতুন এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য ইসরায়েল ভ্রমণে আন্তর্জাতিক আইনি নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বলবৎ রাখা হলো। এছাড়া পাসপোর্টের বাহ্যিক প্রচ্ছদেও আনা হয়েছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যার সামনের প্রচ্ছদে শোভা পাবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং পেছনের প্রচ্ছদে স্থান পাবে জাতীয় সংসদ ভবনের ছবি।

পাসপোর্টের ভেতরের পাতাগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড বা জলছাপের তালিকায় ব্যাপক রদবদল এনে দেশীয় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। পূর্বের পাসপোর্টে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, হাতিরঝিল বা বিভিন্ন আধুনিক অবকাঠামো এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলের ছবি যুক্ত থাকলেও নতুন আদেশে সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে জাতীয় প্রতীক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহকে। নতুন সংস্করণে জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, কান্তজিউ মন্দির, ঐতিহাসিক পানাম নগর, টাঙ্গুয়ার হাওর, আহসান মঞ্জিল, স্বর্ণমন্দির, কার্জন হল, শাপলা, দোয়েল, ইলিশ এবং খ্রিস্টধর্মের হলি রোজারি চার্চের মতো ঐতিহাসিক স্থান ও জাতীয় প্রতীকসমূহ।

সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের অংশ হিসেবে বান্দরবানের নীলগিরি, কাপ্তাইয়ের ঝাউবনবেষ্টিত সমুদ্রসৈকত, রাজশাহীর আমবাগান, সোনারগাঁও, ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’ স্থান পাচ্ছে নতুন পাসপোর্টে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান যে, পাসপোর্টে যেমন একদিকে দেশের জাতীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক দরবারে তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবে এই রূপান্তর সাধন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এই নির্দেশনাবলী অনুযায়ী খুব শীঘ্রই নতুন ডিজাইনের ই-পাসপোর্ট মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...